সিরাজুল ইসলাম জন্ম ১৪ জুন ১৯৫১ সালে নারিন্দা, ঢাকায়। ষাটের ঢাকা এবং উৎকণ্ঠিত এক জায়মান সমাজবীক্ষা এই লেখকের ধমনিতে হয়তাে নিজের অজান্তেই জন্ম
দিয়েছিল ভিন্ন এক শিল্পচেতনা, যা তাঁর গল্প-উপন্যাসগুলাে বহন করে চলেছে! লেখালেখিসহ সামাজিক বিভিন্ন পরীক্ষাপ্রবণ সময়ে সিরাজুল
ইসলাম উপন্যাস লেখেন প্রথাবদ্ধ নিয়মে, কথাসাহিত্যের ঐতিহ্য মেনে। কিন্তু নিয়ম মানাও যে
নতুন নিয়ম গড়ার আঁতুড়ঘর হতে পারে, সিরাজুল ইসলামের লেখা তা পাঠককে
অতি মৃদুকণ্ঠে নিয়ত জানিয়ে দেয়! পলাতকা, অশেষ, সিংহাসন, সােনার আলােয়, পাথরগুলাে, ছত্রাক, কুশীলব, হৃদয়, প্রিয়তম, টাপুর টুপুর লেখকের প্রকাশিত অন্যান্য উপন্যাস।
সিরাজুল ইসলামের প্রায় সব গল্প বা উপন্যাসের বেশিরভাগ উপাদান শহরজীবনের বেদনাক্রান্ত জটিল;
কিন্তু অতি সূক্ষ্ম মানবিক ক্ষরণের কথা। সংক্ষিপ্ত পরিসরে প্রায়ই শিল্পমূর্তি ধারণ করে সেই অন্তর্গত দ্বন্দ্বদীর্ণ ও রক্তিম ক্ষরণগুলাে! প্রায় প্রতিটি লেখাই নিজের অভিজ্ঞতা-সংহত; কিন্তু মধ্যবিত্ত মূল্যবােধ
দ্বারা জারিত, কখনাে কখনাে একটু বিস্ফোরণের আভায় জড়ানােও। মধ্যবিত্ত বাঙালির গণ্ডির ভেতর ও বাইরের ক্ষীণ সীমারেখায় দাঁড়িয়ে মানব-মানবীর
মনােজগতের অজানা প্রদেশের নিত্য খোঁড়াখুঁড়ি সিরাজের বিরামহীন এক প্রয়াস! পরিবেশের কুৎসিত বীভৎসতা বা ইতরতার মধ্যেও সিরাজের অন্বেষণ ও অন্বিষ্ট মানবিক হৃদয়ের ছবি আঁকা! সিরাজের গল্প বা উপন্যাস ভাবালুতাবর্জিত; কিন্তু ভাবনা উদ্রেককারী ।
মানবের অদম্য প্রাণশক্তির জয়ই সকল বেদনা বা সংগ্রামের মধ্যে বিভিন্ন
শব্দের জাদুতে আঁকেন তিনি।