বর্তমানের পৃথিবীতে বসে যারা আগামীর স্বপ্ন দেখেন, মাওলানা ইফতেখার সিফাত হলেন তেমনই একজন ব্যক্তিত্ব। তার চিন্তাশক্তি ও চিন্তাসূত্র থেকে যে ক্রিটিকস ও সমাধান উদ্গত হয়, তা মেঘের আড়ালের রোদ্দুর হয়ে দীর্ঘসময় আলো ছড়ানোর শক্তি রাখে। সাধারণত এ বিষয়ের লেখকেরা গম্ভীর ও জটিল ভাষায় লেখালেখি করেন। মুহতারাম ইফতেখার সিফাতের স্বাতন্ত্র্য এই জায়গাটিতেই। তিনি জটিল ও শাস্ত্রীয় বিষয়কে ফুটিয়ে তোলেন জনমানুষের ভাষায়। যে ভাষায় মানুষ কথা বলে ও মনের ভাব প্রকাশ করে। ফলে তার লেখা থেকে 'মুক্তো তুলে মালা গাঁথা' একেবারেই সহজ।
তিনি সামসময়িক মুসলিমদের মনস্তাত্ত্বিক সংকট ও সমাধান নিয়ে কাজ করেন। বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই ও চেতনার আগ্রাসনের ফলে আমাদের ওপর যে পারতন্ত্র্য চেপে বসেছে, তার স্বরূপ উদ্ঘাটন ও শরিয়াহভিত্তিক সমাধান পাওয়া যায় তার লেখায়। তার প্রশংসনীয় একটি দিক হলো, তিনি চলতে ভালোবাসেন কুরআনের মাইলফলক দেখে, ভাবতে ভালোবাসেন হাদিসের সীমানায় থেকে এবং বলতে ভালোবাসেন সালাফের ফাহমে সজ্জিত হয়ে। এই বৈশিষ্ট্যের কারণেই তার লেখা মার্জিত এবং বোদ্ধামহলে গৃহীত।
তিনি পড়াশোনা করেছেন কওমি মাদরাসায়। একাডেমিক পড়াশোনা সমাপ্ত করে এখন তিনি ব্যস্ত চিন্তা-বিনির্মাণ ও লেখালেখি নিয়ে। ইতিমধ্যেই তার বেশ কিছু বই বাজারে এসেছে। তার চিন্তা ও প্রয়াসে যে গতি ও স্বচ্ছতা রয়েছে, তা এই প্রজন্মের রাহবার হয়ে উঠুক। এ দেশে বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তার ক্ষেত্র তার হাত ধরে এগিয়ে যাক। এ-ই কামনা।