দেবপ্রিয় চাকমার (Deba Priya Chakma) জন্ম খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার পানছড়ি উপজেলায় (চেঙ্গী ভেলী)। তার পড়াশুনা শুরু হয় 'শরণার্থী শিশু' হিসেবে ভারতের দক্ষিণ ত্রিপুরার করবুক শরণার্থী শিবিরের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে; আর সমাপ্ত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে। তিনি মাস্টার্স ইন ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ ও মাস্টার্স ইন সোসিওলজি এন্ড অ্যানথ্রপলজি সম্পন্ন করেন। যাপিত জীবনে একজন 'শরণার্থী শিশু', 'গুচ্ছগ্রামবাসী', 'অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু' এবং 'কাপ্তাই বাঁধের উদ্বাস্তুর সন্তান' ছিলেন। তিনি স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বেসরকারী সংস্থায় কাজ করেছেন। বর্তমানেও একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করছেন।
তিনি চাকরির পাশাপাশি লেখালেখি ও সাহিত্য-সংস্কৃতি সংগঠক হিসেবে কাজ করেন। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যতম বৃহত্তম সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংগঠন 'চাঙমা সাহিত্য বাহ'-র প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ২০০০ সালের ১ জানুয়ারি বন্ধুদের সাথে নিয়ে 'চাঙমা সাহিত্য বাহ' প্রতিষ্ঠা করেন। এ সংগঠনটি অন্যান্য কাজের মধ্যে ১৪,০০০ জনকে চাঙমা বর্ণমালা প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে। তিনি এ সংগঠনের পক্ষে চাকমা ভাষার অনিয়মিত সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন 'চাঙমা সাহিত্য পত্রিকা' (১-১০ সংখ্যা) (২০০১-২০০৫), উজ্জনী (১-২ সংখ্যা) (২০২৩), সংজোআর (সম্পাদনা সদস্য) (২০২৪)। তিনি চাঙমা সাহিত্য বাহ্ লেখক ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, চাঙমা সাহিত্য বাহ পাবলিশার্সের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং 'পার্বত্য চট্টগ্রাম ধর্ম মহামাত্র' এর প্রতিষ্ঠাতা।
তিনি বারোটি গ্রন্থ রচনা করেছেন। সেগুলো হলো পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক গ্রন্থ 'পার্বত্য চট্টগ্রাম: শেষ কোথায়' (২০০২), চাকমা ভাষায় ধর্মীয় গ্রন্থ 'ধর্ম পহর' (২০০৩), প্রথম চাকমা উপন্যাস 'ফেবো' (২০০৪), চাকমা লোকছড়ার গ্রন্থ 'ওলি ওলি' (২০০৫), শিশুতোষ গল্প 'ফুটবল কন্যা আনাই ও আনুচিং' (২০১৭), ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থ 'চাকমা জাতি: সংগ্রাম, সংঘর্ষ ও বিজয় ১৭১১-২০২১' (২০২২), চাকমা বর্ণমালা শিক্ষার বই 'চাঙমা নিজেনী' (২০২২ সহ-লেখক), চাকমা কাব্যগ্রন্থ 'রেত্তো কক্কে পহর অহব' (২০২৩), বৌদ্ধ তীর্থ ভ্রমণবিষয়ক 'চারি মহাতীর্থ ভ্রমণ' (২০২৫ সহ-লেখক), চাকমা কাব্যগ্রন্থ 'ঘুথ্যা' (২০২৬), ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থ 'ব্রিটিশ রেকর্ডে চাকমা জাতি' (২০২৬), চাকমা সাহিত্যের মহান কবির আত্মজীবনী গ্রন্থ 'মৃত্তিকা চাকমা: অফিসিয়াল আত্মজীবনী' (২০২৬)।
তিনি জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ চাকমা ভাষায় অনুবাদ করেছেন।