মোহাম্মদ আহছান উল্লাহ ফরিদ জন্মগ্রহণ করেন ৩১ জানুয়ারি ১৯৫৩ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ উপজেলার নাওঘাট গ্রামের ঐতিহ্যবাহী ডেপুটিবাড়িতে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের প্রথম ব্যাচের ছাত্র এবং একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার উত্তরসূরি। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি সাহিত্য, সংগীত ও সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন।
বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী আহছান উল্লাহ ফরিদ একাধারে কবি, গীতিকার, সুরকার, গায়ক, প্রবন্ধকার, রম্যরচয়িতা, সাংস্কৃতিক সংগঠক ও সমাজসেবক। তিনি প্রায় ২০০০ কবিতা ও ৫৫০টিরও বেশি গান রচনা করেছেন, যেগুলো বিভিন্ন জাতীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হয়েছে। তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের গীতিকার হিসেবেও পরিচিত।
তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বর্তমান সংস্কৃতি ও পদচারণ, অতীত দিনের স্মৃতি, ফেলে আসা একাত্তর ও মুক্তিযুদ্ধের সিনগুলো, আহছান উল্লাহ ফরিদের আনুষরের বাল্লি দেখা, সঞ্চর (কবিতা) ও অন্যক প্রেমবিলাস (রম্যরচনা)।
তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া শিল্পকলা একাডেমি, শিশু একাডেমি, শিল্পী সংস্থা, কচিকাঁচার মেলা, স্ট্যালা ট্র্যাডিশনাল ট্র্যাকসহ বহু সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সংগঠক হিসেবে কাজ করেছেন। ঢাকাতেও ‘মন্দিরা শিল্পীগোষ্ঠী’ ও ‘সুরের ধীবন’ নামে সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন এবং অনাথ শিশু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘পিত উন্নয়ন সংস্থা’র প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক ও প্রিন্সিপাল ছিলেন।
বর্তমানে তিনি ঢাকার শান্তিবাগে পরিবারসহ বসবাস করছেন। তাঁর স্ত্রী আইরিন আখতার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে কর্মরত, এবং তাঁর দুই পুত্র যথাক্রমে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও কর্পোরেট কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন।