উম্মে মুহাম্মাদ।
২৫ জুলাই, ২০০৩ সালে সুবহে সাদিকের সময় নোয়াখালীর এক ঐতিহ্যবাহী ইলমি পরিবারে তাঁর জন্ম। তিনি প্রখ্যাত আলেমে দীন আল্লামা উবায়দুল্লাহ (রহ.)-এর সুযোগ্য নাতনী এবং বিশিষ্ট আলেম আল্লামা সাব্বির (দা.বা.)-এর জ্যেষ্ঠ কন্যা।
শিক্ষাজীবন ও ইলমি সফর
পারিবারিক ঐতিহ্যের ধারায় আলেমা মায়ের কাছেই তাঁর শিক্ষার হাতেখড়ি। এরপর ‘তালিমুল মুসলিমাত’ ও ‘তালিমুন নিসওয়ান’ মাদ্রাসা থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের ইলম অর্জন করেন। এরপর পাড়ি জমান প্রিয় নবির শহর পবিত্র হারামাইন শরিফাইনে, রাসুলুল্লাহর রওজা জিয়ারতের পাশাপাশি সেখানে তিনি কিছু সময় দীনি তালিম গ্রহণ করেন। পরিশেষে ২০২১ সালে বাংলাদেশের ‘আল-হাইয়াতুল উলইয়া লিল মাদারিসিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ বোর্ড থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।
গবেষণা ও দায়িত্ববোধ
দায়ী পিতার আদর্শে শৈশব থেকেই দাওয়াহর প্রতি তাঁর এক সহজাত অনুরাগ ছিল। বিদেশের মাটিতে অবস্থানকালেও তাঁর হৃদয় স্পন্দিত হতো স্বদেশের মুসলিম নারীদের কল্যাণে। বিশেষত, পশ্চিমা শিক্ষার জোয়ারে গা ভাসিয়ে মুসলিম নারীরা যখন দীনের ‘ফরজ ইলম’ থেকে বিচ্যুত হচ্ছিল, সেই সংকট তাকে গভীরভাবে ভাবিয়ে তোলে। সেকুলার সমাজব্যবস্থায় মুসলিম নারীদের ঈমান-আকিদা রক্ষা এবং তাদের জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচানোর এক তীব্র ব্যাকুলতা থেকেই তাঁর মৌলিক গবেষণার জন্ম।
সাধনা ও লক্ষ্য
বর্তমানে তিনি ব্যক্তিগত জীবনে একজন মমতাময়ী জননী ও গৃহিণী হয়েও উম্মাহর ফিকিরে নিজেকে সঁপে দিয়েছেন। ‘নারীর ফরজ ইলম’ বইটি তার এই চিন্তার প্রথম প্রয়াস। আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত বোনদের পশ্চিমা সাংস্কৃতিক আগ্রাসন থেকে মুক্ত করে শরিয়তের আবশ্যকীয় জ্ঞানে সমৃদ্ধ করাই তাঁর মূল লক্ষ্য। গ্রন্থটি প্রকাশের পূর্ব থেকেই তিনি দেশ-বিদেশের অসংখ্য নারীকে অনলাইন ও অফলাইনে এই বিশেষ কোর্সটি করিয়ে আসছেন। মুসলিম নারীদের আদর্শিক ভিত্তি পুনর্নির্মাণ এবং তাদের যোগ্য ও সচ্চরিত্রবান করে গড়ে তোলাই তাঁর জীবনের পরম ব্রত।