মঞ্জুর এ এলাহী—সমকালীন কথাসাহিত্যে এক স্বতন্ত্র, পরিশীলিত কণ্ঠস্বর। শব্দের নিপুণ নির্মাণে জীবনকে গল্পের আয়নায় তুলে ধরার যে শিল্প, তিনি তারই এক দক্ষ সাধক। জন্ম ১৯৯২ সালের ৭ই ডিসেম্বর, মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর উপজেলার পদ্মা-তীরবর্তী দানিস্তপুর গ্রামে। পিতা বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সাংবাদিক সিকান্দার আবু জাফর, মাতা ফাহিমা বেগম। পরিবার থেকেই পেয়েছেন সাহিত্যচর্চার প্রেরণা ও দায়বদ্ধতার বীজমন্ত্র।
তিনি বাংলা সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী এবং কথাসাহিত্য নিয়ে করেছেন একাধিক প্রশিক্ষণ ও কোর্স। পাণ্ডুলিপির চেয়ে জীবনের গল্প তার কাছে বড়, আর সেই জীবনকেই তিনি রূপ দেন কথাসাহিত্যের রূপকে। সাহিত্যচর্চাকে তিনি দেখেন এক চিরকালীন দায়বোধ হিসেবে—যেখানে অনুভব, প্রতিরোধ, প্রেম ও প্রবণতা একইসাথে ছায়া ফেলে চরিত্রের অবয়বে।
তার প্রথম উপন্যাস ‘রক্তাক্ত চিঠি’ পাঠকসমাজে কুড়িয়েছে প্রশংসা। দ্বিতীয় উপন্যাস ‘আমি আর কোথাও যাব না’ তার লেখকসত্তার পরিপক্ব ও বর্ণময় বিকাশের সাক্ষ্য দেয়। সমসাময়িক বাস্তবতা, ব্যক্তিমানুষের টানাপোড়েন ও অন্তর্জগতের প্রতিধ্বনি তার গদ্যে অনুরণিত হয় গভীর মানবিক বোধে।
তিনি দেশের প্রথম সারির বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের সাহিত্য ম্যাগাজিনে নিয়মিত লেখেন এবং ২০১৭ সালে অর্জন করেন তরুণ লেখক সম্মাননা পুরস্কার—যা তার সাহিত্যিক অভিযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি।
মঞ্জুর এ এলাহীর স্বপ্ন—এই পৃথিবীকে তিনি গল্পের শহরে রূপ দেবেন। সেই শহরের প্রতিটি অলিগলি ভালোবাসার গল্পে মুখরিত থাকবে। সে স্বপ্নই তার সৃজনশীলতার অভিমুখ এবং সাহিত্যিক অন্বেষণের নিরন্তর প্রেরণা।