সাহিত্যাঙ্গনে এক পরিচিত নাম। নানামুখী রচনায় রয়েছে তাঁর সমান আগ্রহ ও কৌতূহল। কখনো ছড়া, কখনো কবিতা, কখনো ফিচার, কখনো প্রবন্ধ-নিবন্ধ লিখলেও গল্প লেখায় তিনি বেশ স্বতঃস্ফূর্ত। ছোটো এবং বড় উভয়ের জন্য তিনি লেখালেখি করেন সনিষ্ঠ আন্তরিকতায়। দেশের বিভিন্ন পত্রিকায় তাঁর লেখা গল্প অত্যন্ত মর্যাদার সঙ্গে প্রকাশিত হয়। অল্প সময়ের ব্যবধানে তিনি অর্জন করেন পাঠকের সমীহ ও ভালোবাসা।
২০১৬ সালে 'বিজ্ঞানের মজার খেলা' নামে একটি নিবন্ধ দিয়ে তাঁর গ্রন্থজগতে প্রবেশ। পরে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম বড়দের গল্পগ্রন্থ 'মেঘে ঢাকা চাঁদ' এবং ছোটোদের উপযোগী গল্পগ্রন্থ 'টিয়া হাসে নীল আকাশে'। এরপরে 'সূর্য নাচে রং তুলিতে', 'দীপুর লাল ঘুড়ি', 'গাছ পাখি রোদের হাসি', 'নাম ছিল তার রাসেল', 'প্রজাপতির টিয়ে বন্ধু' 'সোনালি পরি ও সবুজ ডানার হাঁস', বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গল্পের বই 'প্রাণের নেতা বঙ্গবন্ধু' এবং বড়দের জন্যে লেখা গল্পগ্রন্থ 'সুবাসিত নক্ষত্ররাত"। রুনা তাসমিনার বড়দের গল্পও কয়েকটি বিষয়ের সমন্বয়ে তৈরি হয়। এর মধ্যে থাকে সমাজের মানুষের চরিত্র ও কৌতূহল এবং লেখকের অভিজ্ঞতা ও কল্পনা। কৌতূহলে, অভিজ্ঞতায়, কল্পনায় মেশামেশির ফলে পারস্পরিক মৈত্রী ও দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়ে গল্প এগিয়ে যারা তাঁর ইতিবাচক মনোভঙ্গি ও মানবিক দিকগুলো ফুটে ওঠে লেখায়। ছোটোদের গল্পও অপূর্ব। শিশুকিশোরদের আকর্ষণ করার যথেষ্ট দিক আছে গল্পগুলোতে। তাঁর গল্প বলার ভঙ্গিও চমৎকার। ভাষা সহজ। বাক্যগুলোও জটিল নয়। তাই ছোটোদের বইগুলো বড়রাও পড়েও আনন্দ পাবেন। রুনা তাসমিনার জন্ম চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি পৌরসভার দৌলতপুর গ্রামের আবদুল হামিদ চৌধুরী বাড়িতে। বাবা নুরুল হুদা চৌধুরী। মা রৌশন আরা। শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বত্রিশ বছর। বর্তমানে লেখালেখির পাশাপাশি 'অনন্য ধারা' নামে একটি দ্বিমাসিক পত্রিকার সম্পাদক।