জন্ম : ১৯৭৬ ধর্মপুর, সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা। কবি, কথাসাহিত্যিক, গবেষক, সমালোচক, শিশুসাহিত্যিক ও গীতিকার
হিসেবে সমকালীন সাহিত্যজগতের বহুমাত্রিক স্রষ্টাদের মধ্যে নিজস্ব অবস্থান গড়ে তুলেছেন। শূন্য দশকে কবিতার
মধ্য দিয়ে সাহিত্যে আত্মপ্রকাশের পর তিনি ধ্রুপদী কবি হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। সাম্প্রতিক কাব্যধারায় তাঁর
রচনাসমূহ পরীক্ষণমূলক ও নিরীক্ষাপ্রবণ; এতে বাঙালি জীবনধারার চিরায়ত রূপ ও সমাজচেতনাকে নিখুঁতভাবে
প্রতিফলিত করেছেন। গবেষণাসাহিত্যে তাঁর নিবদ্ধতা ও নিজস্বতা সুস্পষ্ট, এবং সমালোচনায় বিদগ্ধ পাণ্ডিত্য তাঁর
চিন্তাশীলতা ও গভীর বিশ্লেষণক্ষমতার প্রমাণ বহন করে।
শিক্ষাজীবনের সূচনা গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ধর্মপুর ডি ডি এম উচ্চ বিদ্যালয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে
উত্তীর্ণ হন। নাটোর নবাব সিরাজউদ্দৌলা সরকারি কলেজে উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি হন। এসময় সাহিত্যের প্রতি তুমুল
আকর্ষণ অনুভব করলে একাডেমিক লেখাপড়া ছেড়ে বিভিন্ন সাহিত্য সংগঠনে জড়িয়ে পড়েন। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা
দেবেন না; সাহিত্যসাধনা করবেন এই প্রত্যয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় লিখতে থাকেন। পরে মাতৃআজ্ঞায় ও অগ্রজের চাপে
ধর্মপুর আব্দুল জব্বার ডিগ্রি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। ঢাকার জগন্নাথ কলেজ থেকে
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে বি এ (অনার্স) সম্পন্ন করেন ১৯৯৭ সালে এবং এম এ করন ১৯৯৮ সালে। এমফিল (২০১২,
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়) এবং পিএইচডি (গবেষক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়) ডিগ্রি লাভ করেছেন। এছাড়াও
ঢাকা লিবার্টি ল’ কলেজ থেকে বিশেষ শিক্ষা হিসেবে এলএলবি (প্রথম পর্ব) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা
ইনস্টিটিউট থেকে তুর্কি ভাষার কোর্স সম্পন্ন করেছেন।
ড. শাফিক আফতাব সাংবাদিকতা, প্রকাশনা এবং একাধিক কলেজে অধ্যাপনার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন।
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ধ্যাপক। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপক হিসেবে তিনি তুমুল
জনপ্রিয়। তাঁর গবেষণা ও সাহিত্যকর্মের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে তিনি অনন্য অবদান রেখেছেন।
ড. শাফিক আফতাব টেলিভিশন ও বেতারে দেশের সাহিত্য ও সামাজিক ইস্যু নিয়ে ত্রিশের অধিক সাক্ষাৎকার প্রদান
করেছেন। তাঁর কবিতা ও গান বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন মিডিয়ায় আবৃত্তি ও প্রচারিত হয়েছে।
সাংবাদিকতা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তাঁর ভূমিকা যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। বিভিন্ন সাহিত্য, সামাজিক
ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের দায়িত্ব তিনি দক্ষতার সঙ্গে পালন করছেন। সাহিত্যিক ও সামাজিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ
তিনি ভূষিত হয়েছেন চে গুয়েভারা সাহিত্য পুরস্কার (২০১৮), নজরুল সাহিত্য পুরস্কার (২০১৮) এবং মাদার সেরেসা
সাহিত্য পুরস্কার (২০১৯) দ্বারা।
ড. শাফিক আফতাবের সাহিত্য ও গবেষণার অঙ্গন একদিকে চিরায়ত বাঙালি জীবনধারার আলোচ্য ও চিত্রায়ন,
অন্যদিকে সমাজবোধ ও মানবিক চেতনার বহুমাত্রিক প্রকাশ হিসেবে স্বতন্ত্র অবস্থান নিশ্চিত করেছে।