মোঃ ইজারুল ইসলাম
(কবি, ছড়াকার, নাট্যব্যক্তিত্ব)
মোঃ ইজারুল ইসলাম—আধুনিক বাংলা সাহিত্যাঙ্গনের এক সংবেদনশীল কণ্ঠস্বর। তিনি ১৯৮০ সালে পাবনার চাটমোহর উপজেলার অমৃতকুণ্ডা (রেলবাজার) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ থেকে ২০০৫ সালে স্নাতক (সম্মান) এবং ২০০৬ সালে প্রথম শ্রেণিতে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে পেশাগত জীবনে শিক্ষকতার পাশাপাশি সাহিত্য, অভিনয় ও সাংস্কৃতিক চর্চায় নিজেকে নিবেদিত রেখেছেন।
যদিও শৈশবে তাঁর হাতে লেখার হাতেখড়ি হয়, প্রকৃত সাহিত্যসাধনার সূচনা ঘটে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ ও ভাবনাবহুল প্রাঙ্গণে। প্রকৃতি, সমাজ ও সময়ের সংবেদনশীল চিত্র তিনি তুলে ধরেছেন কবিতা, ছড়া, গল্প, গান ও নাটকে। তাঁর কাব্যচিন্তায় রয়েছে অন্তর্দৃষ্টি, তারুণ্যের উচ্ছ্বাস ও মানবিক প্রশ্ন।
২০১১ সালে প্রকাশিত তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘হৃদয়ের কাব্য’ পাঠকের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগায়। এই গ্রন্থে তিনি হৃদয়ের আলোড়ন, ভালোবাসা, ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক অনুভবকে মেলবন্ধন করেছেন মননশীল কাব্যভাষায়। শিশুতোষ সাহিত্যে তাঁর প্রথম গ্রন্থ ‘হিতাং হিতাং পা পা’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, যা ছন্দের তালে সহজ ও সাবলীলভাবে রচিত এক রোমাঞ্চকর ছড়াকাব্য। এই গ্রন্থে তিন বালিকা—সিলভি, সিমিন ও ইভাকে নিয়ে চাঁদের বুড়ির মজার কাহিনি ফুটে উঠেছে ছড়ার ছন্দে ও রঙিন কল্পনায়, যা ছোটদের কাছে আনন্দদায়ক ও আকর্ষণীয় করে তোলে।
ইজারুল ইসলামের লেখালেখির অন্যতম বৈশিষ্ট্য তার বহুমাত্রিকতা—কবিতা থেকে ছড়া, শিশুতোষ সাহিত্য থেকে নাটক—প্রতিটি মাধ্যমে তিনি স্বকীয়তা বজায় রেখে কাজ করে চলেছেন। তিনি নিয়মিত মঞ্চ ও টেলিভিশনে অভিনয় করে থাকেন, যা তাঁর শিল্পীসত্তাকে আরও ব্যাপ্তি দিয়েছে।
সাহিত্য, শিক্ষাদান ও সংস্কৃতির সম্মিলিত সাধনায় মোঃ ইজারুল ইসলাম একজন প্রতিশ্রুতিশীল লেখক, যিনি আগামী প্রজন্মের পাঠকদের কাছে চিন্তাশীল, সৌন্দর্যসন্ধানী ও আনন্দময় পাঠ-অভিজ্ঞতা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছেন নিরন্তর।