এম. কে. আলী—একজন চিন্তাশীল গীতিকার, কণ্ঠশিল্পী, সুরকার এবং সাবেক সেনা কর্মকর্তা, যিনি শিল্প ও জীবনের সংযোগস্থলে দাঁড়িয়ে তাঁর সৃষ্টিকে ভবিষ্যতের প্রজন্মের জন্য রেখে যেতে চান এক আন্তরিক প্রয়াসে। তার মতে, "প্রত্যেক মানুষের উচিৎ আগামী পৃথিবীর জন্য কিছু রেখে যাওয়া।" সেই দর্শন থেকেই তিনি বেছে নিয়েছেন গানকে—ভবিষ্যতের কাছে অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা পৌঁছে দেওয়ার ভাষা হিসেবে।
জন্ম মানিকগঞ্জে। পিতা ডা. আরমান আলী ছিলেন একজন চিকিৎসক; মা মাহমুদা খাতুন। শিক্ষা জীবনে তিনি ঢাকা কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সামরিক এবং বেসামরিক বিষয়ে উচ্চতর পাঠ গ্রহণ করেছেন। ছাত্রজীবন থেকেই সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং সংগীতের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। পেশাগত জীবনে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে মেজর পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালন করেন এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে পশ্চিম আফ্রিকায় নিয়োজিত ছিলেন।
গানের জগতে এম. কে. আলী একটি স্বতন্ত্র পরিচিতি। তিনি নিজেই লিখেছেন প্রায় পাঁচশত মৌলিক গান, যেগুলোর কথা, সুর এবং কণ্ঠ সবই তাঁর নিজের সৃষ্টি। ২০০৭ সালে দেশের খ্যাতনামা সিডি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান জি-সিরিজ-এর অঙ্গপ্রতিষ্ঠান অগ্নিবীণা থেকে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম একক অডিও ও ভিডিও অ্যালবাম বেনিন তীরে। সেই গানের ভুবনে তিনি হয়ে ওঠেন এক নতুন কণ্ঠস্বর—যেখানে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, যুদ্ধ-শান্তি, ভালোবাসা ও মানবিক চেতনা একই সুরে মিশে যায়।
তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত গীতিকার ও কণ্ঠশিল্পী। একাধারে সংগঠকও—পশ্চিম আফ্রিকার কর্মময় জীবনের প্রেক্ষাপটে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন আন্তর্জাতিক ব্যান্ড "Rockel River - Bangladesh"। এই ব্যান্ডটি সাতটি দেশের শিল্পীদের সম্মিলিত প্রয়াস, যার লক্ষ্য ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোতে, বিশেষত রিফিউজি ক্যাম্প-এ সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে শান্তির বাণী ছড়িয়ে দেওয়া। এ লক্ষ্যে তিনি জাতিসংঘের (TOGH-এর অধীনে) একটি অর্কেস্ট্রা টিম গঠনের প্রস্তাবও আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেন।
তার সামগ্রিক সৃজন প্রয়াস—হোক তা গানে, গ্রন্থে বা ব্যান্ড সংগঠনে—প্রতিফলিত করে এক বিশ্বমানবিক চেতনা, যেখানে সীমান্ত নয়, বরং অনুভূতির সেতুবন্ধনই মুখ্য। তাঁর কথায়—
“অবাক পৃথিবীর সবটুকু অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা আগামী পৃথিবী এবং প্রজন্মের কাছে গানের ধারায় রেখে যেতে আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।”
এম. কে. আলী কেবল একজন শিল্পী নন, বরং এক মানবিক দূত—যিনি গানের ভাষায় লিখে চলেছেন এক বিকল্প ইতিহাস; শোনাচ্ছেন শান্তি, প্রেম ও দায়িত্বের এক অন্তরঙ্গ আখ্যান।