ছড়া, কবিতা ও ছোটগল্পের বহুমাত্রিক ভুবনে যিনি নিজস্ব অভিব্যক্তির স্বাক্ষর রেখে চলেছেন, তিনি হলেন জহিরুল ইসলাম রায়হান—একজন প্রতিশ্রুতিশীল সাহিত্যস্রষ্টা, যাঁর লেখায় অনুরণিত হয় সমাজ, স্বপ্ন ও সংবেদনশীলতার ছায়াপাত।
তাঁর প্রকাশিত ছড়াগ্রন্থ “চাতক”—শৈশব, জীবনবোধ ও সহজ প্রকাশভঙ্গির এক সজীব সমাহার। এই গ্রন্থে ছন্দ আর ভাবের যে অনায়াস মিশ্রণ ঘটেছে, তা পাঠকের হৃদয়ে ছুঁয়ে যায় সাবলীল আন্তরিকতায়।
কবিতায় তাঁর স্বকীয় কণ্ঠস্বর স্পষ্ট হয়ে ওঠে “নোনাজল সুখ বাংলা কবিতা” গ্রন্থে, যেখানে ব্যক্তি ও সমাজ, অতৃপ্তি ও আকাঙ্ক্ষার দ্বন্দ্ব এক মানবিক রূপ ধারণ করে। তাঁর কাব্যভাষা কখনো কোমল, কখনো তীব্র—কখনো সংবেদনশীল আর কখনো প্রতিবাদী।
গদ্যভুবনে তিনি প্রবেশ করেছেন “স্বপ্ননীল” ছোটগল্পসংকলনের মধ্য দিয়ে, যেখানে স্বপ্ন ও বাস্তবতার টানাপোড়েন, সম্পর্কের নিঃশব্দ জটিলতা ও জীবনের অভ্যন্তরীণ রং রূপকথার মতো ফুটে উঠেছে—কখনো ধোঁয়াশায়, কখনো দীপ্ত আলোয়।
ছড়া, কবিতা ও গদ্যের এই সৃজনধারা প্রমাণ করে, জহিরুল ইসলাম রায়হান কেবল এক ধারার লেখক নন—তিনি এক বহুরৈখিক সাহিত্যদৃষ্টির ধারক, যিনি শব্দকে শুধু বহন করেন না, বরং তাকে রূপান্তর করেন অনুভবের মানচিত্রে।