facebook-pixel

Sort

Filters

Authors

close-icon

Categories

close-icon

Publishers

close-icon

Languages

close-icon

Ratings

Shop by Price

৳0

৳500

Shop by Discount

0%

15%

publisher-info
0 followers

Anjali Lahiri

অঞ্জলি লাহিড়ীর জন্ম ১৯২২ সালে, কলকাতা রাজা নবকৃষ্ণ স্ট্রিটে ঠাকুরদার বাড়িতে। দশ মাস বয়সে শিলং চলে আসেন। মায়ের সঙ্গে। মা সুবর্ণপ্রভা দাস তখন জেলরােড গার্লস্ স্কুলের শিক্ষকতার চাকরি নিয়ে শিলং-এ বসবাস শুরু করেন। সেই স্কুল থেকে ক্লাস সিক্স পর্যন্ত পড়ে ময়মনসিংহের বিদ্যাময়ীতে ছিলেন এক বছর । তারপর কলকাতার ভিক্টোরিয়া ইনস্টিটিউট থেকে ম্যাট্রিক দেন। অঞ্জলি লাহিড়ীর ইচ্ছে ছিল, কলকাতায় থেকে কলেজে পড়ার । ততােদিনে বামপন্থী আন্দোলনের ঢেউ দেয়াল টপকে ঢুকে পড়েছে মহানগরীর স্কুল-কলেজে। মা আর দাদা তাঁর মতলব টের পেয়ে গেলেন। অনশন করে, মেঝেতে গড়াগড়ি দিয়েও কোনাে ফল পাওয়া গেল না। শিলং-এর সেন্ট মেরি’স কলেজে ভর্তি হতে হলাে তাকে। তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। শিলং-এর রাস্তাঘাটে দেশি-বিদেশি সৈন্যরা সব টহল দিয়ে বেড়ায়। এ অবস্থায় অঞ্জলি লাহিড়ী মাকে গিয়ে বললেন, পড়াশােনা করতে হলে তাকে যুদ্ধের ডামাডােল থেকে বেরিয়ে সিলেট চলে যেতে হবে। দিদি কল্যাণী দাস তখন ওখানকার রেডক্রসের ডাক্তার। সিলেটে এসে কোথায় পড়াশােনা, কোথায় কী ।। ময়মনসিংহের বান্ধবী কল্যাণী সেন ঢাকা হয়ে সিলেট পৌছে গেলেন। বিদ্যাময়ীতে পড়ার সময় পঞ্চম এডওয়ার্ডের ছবি পােড়ানাের অভিযােগে কল্যাণী স্কুল। থেকে বহিস্কৃত হন। অঞ্জলি লাহিড়ীকে তখন সতর্ক করে দেয়া হয়েছিল, এ ধরনের রাষ্ট্রদ্রোহী কাজ যেন তিনি । ভবিষ্যতে আর না করেন। এখন মাথার ওপর বিদ্যাময়ীর দিদিমণিরাও নেই আর স্কুলের গণ্ডি তাে সেই কবেই তারা পেরিয়ে এসেছেন। দুই বান্ধবী ভারতের কমিউনিস্ট পার্টিতে যােগ দিয়ে সিলেটের গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়ান, কখনােসখনাে আসাম ভ্যালিতেও তাদের ডাক পড়ে । এ অবস্থায় কেবল মায়ের মুখ চেয়ে তিনি ইন্টারমেডিয়েট পরীক্ষাটা দিয়েছিলেন। তারপর পড়াশােনায় ইস্তফা দিয়ে পুরােদমে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়লেন। দেশ ভাগের পর বি.এ পাস করেন। তিনি তখন অল আসাম গার্লস্ স্টুডেন্ট অ্যাসােসিয়েশনের সেক্রেটারি। তারপর তাে। আন্ডারগ্রাউন্ডে থাকা, জেল খাটা এসব হলাে। ষাটের দশকের শুরুতে পার্টি বিভাজনের পর রাজনীতি ছেড়ে দেন। সেই থেকে নানা রকম সমাজসেবার কাজ করে যাচ্ছেন। অঞ্জলি লাহিড়ী ডায়েরি আকারে সব সময়ই কিছু না কিছু লিখেছেন। সিলেট-মেঘালয় সীমান্তবর্তী শরণার্থী শিবিরের কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখেছেন এই বই স্মৃতি ও কথা ১৯৭১। তাছাড়া সুনামগঞ্জের এক শহীদ মুক্তিযােদ্ধাকে নিয়ে লিখেছেন। জগজ্যোতি। খাসিয়াদের জীবন নিয়ে তাঁর লেখা বই বিলােরিস এবং সােনার সিঁড়ির উপকথা প্রকাশিত হয়েছে কলকাতা থেকে। অনূদিত গ্রন্থ অসমের। মহিলা কথাকার’র জন্য লীলা রায় স্মৃতি পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। অঞ্জলি লাহিড়ীর অন্যান্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে সুবর্ণপ্রভা দাস ও তৎকালীন নারী সমাজ এবং পামভিউ নার্সিংহােম। নব্বইয়ে পা দেয়া অঞ্জলি লাহিড়ী শিলং-গৌহাটি দু’জায়গায়ই থাকেন পুত্র রাহুল ও বােনের ছেলে সুরজিত দত্তকে নিয়ে। ২০০৬ সালে এক সময়ের কমরেড ও দীর্ঘদিনের সঙ্গী নীরেন লাহিড়ী মারা গেছেন। একমাত্র মেয়ে বুলবুলি জার্মানি-প্রবাসী।