খান তোহিদ পারভেজ, সাহিত্যপ্রেমী এই লেখক সাগর খান নামে পরিচিত।
তার লেখনীতে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য, রোমান্টিকতার সূক্ষ্ম অনুভূতি, দেশপ্রেমের গভীর আবেগ এবং মানবিকতার মর্মস্পর্শী চিত্র অনন্য দক্ষতায় ফুটে ওঠে।
বরিশালে জন্ম নেওয়া এই লেখকের শৈশব কেটেছে প্রকৃতির নিবিড় সান্নিধ্যে-গাছপালা, পাখি, প্রজাপতি, খাল-বিল আর দিগন্ত বিস্তৃত ধানখেতের মাঝে। বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরে বেড়ানো, খেলাধুলা আর রঙিন ঘুড়ি উড়ানোর স্মৃতি আজও তার কল্পনায় জাগরূক, যা তার সাহিত্যকে প্রাণবন্ত ও হৃদয়গ্রাহী করে তুলেছে।
বরিশাল শহরের দক্ষিণ আলেকান্দার আব্দুর রাজ্জাক খান ও ফিরোজা বেগমের সাত সন্তানের মধ্যে তিনি পঞ্চম। তার শৈশব কেটেছে পরিবার ও প্রকৃতির নিবিড় সান্নিধ্যে, যা তার মানসিক গঠন ও সাহিত্যচর্চাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার শুরু বরিশালেই। চিকিৎসাশাস্ত্রে প্রাথমিক পড়াশোনা শোষ তিনি জনস্বাস্থ্য, জনসংখ্যাবিজ্ঞান, ব্যাবসা প্রশাসন এবং উন্নয়ন অধ্যয়ন নিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। মানুষের কল্যাণের প্রতি গভীর অঙ্গীকার তাঁকে
গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসুরক্ষা ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করেছে। শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-সহ বিন্নি প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার সুবাদে তিনি অসংখ্য মানুষের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়ার সুযোগ পান। কর্মজীবনে দেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় ভ্রমণের অভিজ্ঞতা অর্জনের ফলে তিনি বাংলাদেশের প্রকৃতি ও মানুষের জীবনধারাকে নিবিড়ভাবে প্রত্যক্ষ করেছেন, যা তার সাহিত্যকর্মকে সমৃদ্ধ করেছে।
লেখালেখির প্রতি তার অনুরাগ শৈশব থেকেই। স্কুলজীবনে দেওয়ালিকা ও স্মরণিকায় তার প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়। এরপর স্থানীয় পত্রিকায় নিয়মিত লোয় প্রকাশিত হতে থাকে। কর্মজীবনের ব্যস্ততার কারণে কিছু সময় লেখালেখি থেকে দূরে থাকলেও সাহিত্যের প্রতি গভীর ভালোবাসা তাকে আমার কলম ধরতে উৎসাহিত করে। বর্তমানে তিনি কবিতার পাশাপাশি জাতীয় দৈনিকগুলোতে কলাম লেখক হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছেন।
'নোঙর ফেলেছে চাঁদ'-কাব্য সংকলনে তিনি অরণ্য আকাশ ছদ্মনামে আত্মপ্রকাশ করেন, যা পাঠকদের প্রশংসা কুড়ায়। বর্তমানে তিনি সাগর খান নামেই সাহিত্যজগতে সক্রিয় রয়েছেন। তার লেখায় প্রকৃতি ও রোমান্টিকতার কোমল ছোঁয়ার পাশাপাশি দেশপ্রেম ও মানবিকতার গভীর প্রতিচ্ছবি ফুটে ওটা, যা পাঠকের হৃদয়ে দাগ কাটে এবং অনুপ্রাণিত করে।
তার সাহিত্যকর্ম শুধু গল্প নয়, বরং জীবনের গভীর উপলব্ধির প্রতিচিত্র। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি স্ত্রী ডা. ফারজানা কালাম এবং তিন কন্যা আহিড়ী, আড়ানা ও আরাবীকে নিয়ে বসবাস করছেন। পরিবার, প্রকৃতি ও জীবনের অভিজ্ঞতা তার সাহিত্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছে, যা পাঠকদের হৃদয়ে দীর্ঘ স্থায়ী ছাপ ফেলবে।