গীতিকবি সাঈদুজ্জামান সিপনের জন্ম ও বেড়ে ওঠা চিত্রা নদীর পাড়ে। পদ্মা নদীর পাড়ে তাঁর বসবাস। নদীর কুলকুল ধ্বনি, ঢেউয়ের দোলা, নদীর বুকে মাঝির গান এসবই হয়তো তাঁকে ব্যাকুল করেছে; করেছে কবি।
নিভৃতচারী ও স্নাতকোত্তর এই গীতিকবি পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ভালোলাগা থেকে লেখালেখি করেন। গানের পাশাপাশি কবিতা লেখারও চর্চা করেন। এছাড়া ছোটোগল্প ও নাটকের প্রতিও আগ্রহের কমতি নেই।
তিনি ছাত্রজীবন থেকেই লেখালেখি করেন। তবে অনিয়মিত ও অগোছালো। আশির দশকের মাঝামাঝিতে তাঁর লেখা মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কিশোর ছোটোগল্প দৈনিক বাংলার বাণী (পরবর্তীতে বন্ধ হয়ে যায়) পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। তাছাড়া বিভিন্ন সময় পত্র-পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের একজন তালিকাভুক্ত গীতিকার।
তিনি একেবারে সাদামাটা জীবনযাপনে অভ্যস্ত। আড্ডা দেওয়া, অকৃত্রিম ভালোবাসায় ভরা তৃণমূল মানুষের সাথে মেশা এবং ভ্রমণ করতে পছন্দ করেন । বইপড়া ও গান শোনা তাঁর ভীষণ পছন্দ।
তিনি এনজিও সেক্টরে দায়িত্বপূর্ণ পদে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। প্রশিক্ষণ, দারিদ্র্য-বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন ও স্থানীয় সরকার বিষয়ে তাঁর রয়েছে বিশেষ অভিজ্ঞতা। বর্তমানে হিউম্যান রিসোর্স ডিপার্টমেন্টের প্রধান হিসেবে একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন।
ইতোপূর্বে তাঁর লেখা কবিতা নিয়ে ‘মৃত অজগরের মতো মানুষের মুখ’ নামে একটি কবিতার খাম বের হয়। সাহিত্য-সংস্কৃতি ক্ষেত্রে অবদানের জন্য সাহিত্য ভাবনার ছোটোকাগজ ‘অপরাজিত’ তাঁকে সম্মাননা প্রদান করেন এবং ‘গাঙচিল সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদ’ তাঁকে কীর্তনখোলা গাঙচিল সাহিত্য সম্মাননা প্রদান করেন।
পারিবারিক জীবনে স্ত্রী আনজিরা খাতুন পল্লীবিদ্যুতে কর্মরত। দুই ছেলে অরণ্য শ্রাবণ ও অনন্ত আহনাফ নিয়ে তাঁর সংসার।