এটি ব্যক্তি সততা, নীতি, আদর্শ এবং সামাজিক সভ্যতার মননগত এবং ঐতিহাসিক দ্বন্দ্ব রচনা। গল্প ও গল্পের চরিত্রগুলির মধ্যে দিয়ে আদিম সভ্যতার লালনভূমি প্রাচ্যের অন্ধকারময় ভবিষ্যত থেকে আলোতে বেরিয়ে আসার প্রয়াস কিংবা পাশ্চাত্যের আলোকময় সভ্যতার দ্বান্দ্বিক বিবর্তনের অপমৃত্যু অত্যন্ত নিঁখুতভাবে ফুটে উঠেছে। বিশ্ব সভ্যতার বর্তমান সংকট নিয়ে এমন গভীর পর্যবেক্ষণ এবং একই সঙ্গে সহজ প্রাঞ্জল ভাষা, অসাধারণ হৃদ্ধ বিশ্লেষণ পাঠককে নিঃসন্দেহে এগিয়ে নিয়ে যাবে এক নতুন ভাবনায়। পাঠক পেয়ে যাবেন সমসাময়িক অনেক জটিল প্রশ্নের উত্তরও। সহজ সাবলীলভাবে লেখক বিশ্বরাজনীতির জট খুুলেছেন যা আমাদের বিবেক ও চৈতন্যের দোলায় মুখোমুখি করে দায়হীনতা আর দায়িত্ববোধের ভাবনায়। গত দুই দশকে বাংলা ভাষায় এমন জরুরি বার্তাসম্বলিত গ্রন্থ আমাদের চোখে পড়েছে বলে জোর দাবি করা যায় না।
সাম্রাজ্যবাদ কিংবা জঙ্গীবাদ অর্থনৈতিকভাবে মানুষকে ’অসম’ ভাবতে বাধ্য করতে পারে। কিন্তু অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক কিংবা সামরিক দিক দিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী মানুষটিও সবচেয়ে দুর্বল মানুষটিকে মানুষ হিসেবে ’অসম’ ভাবতে বাধ্য করতে পারে না! সমতার দাবি মানুষের চিরন্তন অঙ্গীকার!
গল্পের নায়ক সুদীপ্ত রহমান আদর্শের আলোকবর্তিকা হয়ে নক্ষত্রের মতন লক্ষ লক্ষ মানুষকে আলো দিয়েছে। কিন্তু ভয়ংকর খেলার ক্রীড়ানক হয়ে একসময় ‘মানুষ’ পরিচয়টাকে নিজেই মুছে ফেললো। কিন্তু মানুষ হিসেবে থেকে গেল সুদীপ্তরই মেয়ে মৌন- সূর্যোদয়ের অপেক্ষায়। উপন্যাসের অসাধারণ কাহিনী, জায়গা, জমি ও মানুষগুলি নিমিষেই আপন করে নেয় আমাদের।