এম.এন. রায়ের মত একজন প্রতাপশালী ও স্বপ্রণোদিত নৈরাজ্যবাদী আজ ইতিহাসে বিস্মৃত এটাকে অনেকটা ষড়যন্ত্রের মতোই মালুম হয়। বইটি যত পড়ছি এম.এন. রায়কে সরাসরি নৈরাজ্যবাদী বলতে আর বাঁধছে না। বস্তুত, নৈরাজ্যবাদী কাউকে হতে হয় না, এটা বাই ডিফল্ট সকলে লালন করে। শৃঙ্খলার বাঁধন হতে মুক্ত হওয়ার আকুতিই যদি হয় স্বাধীনতা, আর ব্যক্তি স্বাধীনতাই যদি হয় নৈরাজ্যবাদের মূলমন্ত্র, তবে বলতে এম.এন. রায়কে নৈরাজ্যবাদী বলতে আর কোন দ্বিধা নাই।
নৈরাজ্যবাদের বক্তব্যকে এখন মানুষের চোখের সামনে নিয়ে আসাটা অত্যন্ত জরুরী এই কারণে যে, মুক্তিপরায়ণতার সবচেয়ে কার্যকর যে পন্থা সেটিকেই চরমভাবে বিকৃত করে উপস্থাপন করা হয়েছে। "নৈরাজ্য" শব্দটা নিয়েই আমাদের একটা ভয়, একটা গা শিরশিরানি নেতিবাচক মনোভাব আছে। অথচ, নৈরাজ্যবাদ নিয়ে চেতনে-অবচেতনে মানুষ কত যে ভেবেছে, কত যে লিখেছে সেসব লেখাগুলো এখনও টিকে আছে কিন্তু সামনে আসতে দেওয়া হচ্ছে না। বিস্তর এইসব লেখালেখিগুলো নৈরাজ্যবাদ সম্পর্কে আমাদের ভয়, অস্বস্তি ও যাবতীয় ভুল ধারণা দূর করতে পারে। কিন্তু, তার জন্য সেইসব লেখাগুলোর সঠিক পরিচর্যা চাই, সেগুলোকে সামনে নিয়ে আসা চাই, অবচেতনে ভাবা নৈরাজ্যবাদ বিষয়ক ভাবনাগুলোকে আবিষ্কার করা চাই। এই কাজটিই করা হয়েছে "নয়া মানবতাবাদ ও নৈরাজ্য: এম.এন.রায়ের মুক্তিপরানতা প্রসঙ্গে" বইতে। এ এক মহান আবিষ্কার।
সেলিম রেজা নিউটনের খাটুনি ভেবেই শিহরিত হচ্ছি। তিনি যে খাটাখাটনি করে, ইন্টারনেটের মহাসমুদ্র ছেঁকে কার্যকর তথ্যগুলো বেছে বের করেছেন এবং তারপর সেগুলো নিয়ে বিস্তর পড়াশোনা করেছেন - পুরো কর্মযজ্ঞটিই আমাকে দারুণভাবে পুলকিত করেছে। বইয়ে তথ্যের গাথুঁনী অত্যন্ত চমকপ্রদ এবং বরাবরের মতোই সেলিম রেজার বিশ্লেষণ অত্যন্ত গভীর, স্পষ্ট এবং সাবলীল।