11 verified Rokomari customers added this product in their favourite lists
TK. 375TK. 309 You Save TK. 66 (18%)
পূর্ব বাংলার সব চাইতে দক্ষিণের শহরটিতে কোর্ট রোড নামে একটি রাস্তা আছে। এই রাস্তা ধরে এগিয়ে গেলে বাঁ ধারে চোখে পড়বে বিরাট লাল রংয়ের একটি প্রাসাদ। কোন কালে দালানটি পর্তুগীজ দস্যুদের
বর্তমানে প্রকাশনীতে এই বইটির মুদ্রিত কপি নেই। বইটি প্রকাশনীতে এভেইলেবল হলে এসএমএস/ইমেইলের মাধ্যমে নোটিফিকেশন পেতে রিকুয়েস্ট ফর রিপ্রিন্ট এ ক্লিক করুন।
বর্তমানে প্রকাশনীতে এই বইটির মুদ্রিত কপি নেই। বইটি প্রকাশনীতে এভেইলেবল হলে এসএমএস/ইমেইলের মাধ্যমে নোটিফিকেশন পেতে রিকুয়েস্ট ফর রিপ্রিন্ট এ ক্লিক করুন।
শহীদ সাবেরকে নিয়ে অনেকদিন থেকে আগ্রহ ছিল। অসংখ্য সাহিত্যিকের লেখায় তাঁর কথা অগুণিত বার পড়েছি। অল্প বয়সে স্বীয় মেধার কারণে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন তিনি। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে ছিল, রোজনামচা- আরেক দুনিয়া থেকে, ছোট গল্পগ্রন্থ-একটুকরো মেঘ, অনুবাদগ্রন্থ-পুশকিনের- ইস্কাপনের বিবি, গোগলের- পাগলের ডায়েরি, ক্যাথারিন ওয়েন্স পিয়ার এর- কালো মেয়ের স্বপ্ন। তিনি কবিতাও লিখেছিলেন, কিন্তু সেগুলো গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়নি।
শহীদ সাবের এক ভাগ্যাহতের নাম। ছোটবেলা থেকে অনাদর, অবহেলা, প্রচন্ড অর্থকষ্টের মধ্যে তাঁর জীবন কেটেছে। ছাত্র রাজনীতিতে জড়িত থাকায় চারবছর জেল খেটেছিলেন। দৈনিক সংবাদের নামকরা সাংবাদিক ছিলেন। সরকারি চাকরি, প্রতিষ্ঠা, বিয়ে, কোনোটি না হবার কারণে তিনি একসময় মানসিক রোগি হয়ে যান। স্বাধিনতা যুদ্ধের সময় ৩১ মার্চ পাকিস্তানি হানাদাররা দৈনিক সংবাদ অফিস জ্বালিয়ে দেয়। সেখানেই ঘুমন্ত অবস্থায় পুড়ে মারা যান শহীদ সাবের। ছাই হয়ে যাওয়া সংবাদ অফিস থেকে তাঁর দেহটিও উদ্ধার করা যায়নি। শহীদ সাবেরের জন্ম ১৮ ডিসেম্বর ১৯৩০, মৃত্যু ৩১ মার্চ ১৯৭১।
৭২-এ ছোটগল্পে তিনি বাংলা একেডেমি পুরস্কার পান (মরণোত্তর)। তাঁর রচনা সমগ্র- 'শহীদ সাবের রচনাসমগ্র' নামে অনুপম প্রকাশনী থেকে বেরিয়েছে। বইটির দাম ৩৭৫ টাকা। বইটিতে তাঁর প্রকাশিত-অপ্রকাশিত সব লেখাই আছে।
শহীদ সাবেরের ছোটগল্পগুলো কি ভাষায়, কি বুননে, কি অভিনবত্বে...অসাধারণ, সত্যিই! তার গল্পের চরিত্রগুলো তাঁর জীবনের মতোই- মৌণ, বিষণ্ন... তবে সেগুলো শহীদ সাবেরের দক্ষ হাতে নির্মিত হয়ে সমাজচিত্র হয়ে পড়েছে। তাঁর গল্পে সময়টা-ও ধরা পড়েছে। একটা গল্পের কথা বলিঃ গল্পের নাম- এক টুকরো মেঘ। কাহিনি অভিনব কিছু নয়। দরিদ্র, মোটামুটি নিঃস্ব একটি পরিবারের একটি ছেলের গল্প এটি। ছেলেটি যখন কাজকর্ম পায় না, মা-বাবার হাতে টাকা দিতে পারেনা তখন মা-ও ছেলেকে অবহেলা করে। ভাতের থালাটি হয় শুকনো, একটু বাড়তি তরকারি দিতেও মায়ের আপত্তি। অথবা বলা যায়, বাড়তি তরকারি কোথায়? যে মা ছেলের পাতে দেবেন! তার চারপাশে কোনো সুখবর নেই। এমন এক পরিস্থিতিতে বন্ধুর সহায়তায় ছেলেটি এরোপ্লেনে দেড়শো টাকা দামের একটি চাকরী পেয়ে যায়। তারপর... ছেলেটির পরিবারের ছোট ছোট সুখ, ছোট ছোট স্বপ্ন বুননের গল্প তরতর করে এগিয়ে চলে... গল্পটির শেষ প্যারাটি এমন- 'আসলে দুনিয়াটা তো তেমন খারাপ নয়, যেমনটা সে দুপুর বেলাতেও ভেবেছে। আকাশ তো নীল-ই, মাঝে মাঝে অল্পক্ষণের জন্যে একটু খানি মেঘ করে'!
আগেই বলেছি তিনি কবিতাও লিখেছেন। শহীদ সাবেরের লেখা কবিতার কয়েকটি লাইন বলি: কবিতার নাম-'স্কুল জীবনের পর'... সেদিনকার সেই সান্ধ্য আসরটি ভালো হয়েছিল/গানগুলি যেন ফরমায়েসী একটি সন্ধ্যার জন্য/যে সন্ধ্যায় সবাই গান গাইবে/প্রয়াসহীন সরলভাবে গীত কয়েকটি সঙ্গীত সাফল্যের দাবী প্রোগ্রামকে বিলম্বিত করেনি/অথবা দীর্ঘরাত্রি প্রতীক্ষার মত বাৎসরিক সাধনার সযত্ন লেখা/ অপরূপ কোন অদ্ভুত আলাপ/ তাও নয়, উদ্যোক্তাদের কিছু কাজ হামেশা যা হয়ে থাকে/ প্রত্যাশিত গতানুগতিকতা/ কয়েকটি গান সত্যই সুগীত হয়েছিল...
লীনা দিলরুবা