ইসলাম উত্তম চরিত্র ও সুন্দর গুণাবলির আধার। বিশ্বনবী হজরত মােহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসলামের এসব চরিত্র ও সুন্দর গুণে গুণান্বিত ছিলেন। তিনি তাঁর উম্মতকে শুধু নামায-রােয, হজ-যাকাতের শিক্ষা-ই দেননি; বরং উত্তম চরিত্রের শিক্ষাও তিনি প্রদান করেছেন। তাঁর হাতেগড়া মুসলমানগণ ছিলেন ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ চরিত্রবান। মানুষ। উত্তম চরিত্র ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। উত্তম চরিত্রের অধিকারী হওয়া ব্যতীত একজন মানুষ পরিপূর্ণ মুসলমান হতে পারে না। নবীজি বলেছেন, আল্লাহ আমাকে উত্তম চরিত্র ও সুন্দর কর্মসমূহের পরিপূর্ণতাদানের লক্ষ্যে প্রেরণ করেছেন। আল্লাহর সকল সৃষ্টির যাবতীয় হক আদায় করা, ছােটোদের স্নেহ করা, বড়ােদের সম্মান করা, সব মানুষকে নিজের হাত ও পায়ের কষ্ট থেকে নিরাপদ রাখা, ধোঁকা না দেওয়া, খেয়ানত করা, সত্য বলা, মিথ্যা না বলা, হিংসা না করা ইত্যাদি এসব হলাে উত্তম চরিত্র। জগতের মানুষগুলােকে এসব চরিত্রে চরিত্রবান করে তােলার জন্য আল্লাহ তাঁর রাসূলকে দুনিয়াতে প্রেরণ করেছেন। হাদীছে নবীজি উত্তম চরিত্রাবলির বিস্তারিত বিবরণ প্রদান করেছেন। এতদ্বিষয়ে কোনাে আলােচনা-ই তিনি বাদ রাখেননি। উপমহাদেশের প্রথিতযশা আলেমে দীন মাওলানা আশেকে এলাহী বুলন্দশহরি নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চরিত্রবিষয়ক সেই হাদীছগুলাের সহজ-সরল তরজমার পাশাপাশি প্রয়ােজনীয় ব্যাখাও প্রদান করেছেন । বিষয়ের গুরুত্ব বিবেচনায় আমরা বইটির বাংলা তরজমা বাংলাভাষী পাঠক-পাঠিকাদের হাতে তুলে দিলাম । মহান আল্লাহর সমীপে আমরা বইটির কবুলিয়াত কামনা করছি।
(১৯২৫—২০০২) দক্ষিণ এশিয়ার ইসলামী চিন্তা-চেতনা ও ফিকহী-ঐতিহ্যের ধারক- বাহক এবং অন্যতম বিশিষ্ট আলেম ছিলেন। তিনি শাইখুল হাদীস যাকারিয়া কান্ধলভী রহ.-এর প্রখ্যাত শিষ্য এবং দারুল উলূম করাচির দারুল ইফতা বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন।
১৯২৫ সালে উত্তর প্রদেশের বুলন্দশহরে জন্মগ্রহণ করে তিনি মাদরাসা ইমদাদিয়াহ মুরাদাবাদ, জামে মসজিদ আলীগড় এবং মাযহারুল উলূম সাহারানপুরে শিক্ষা গ্রহণ করেন। উচ্চতর শিক্ষাজীবন সমাপ্তির পর তিনি ফিরোজপুর ঝিরকা, মুরাদাবাদ ও কলকাতার বিভিন্ন মাদরাসায় অধ্যাপনা করেন। ১৯৬৪ সালে তিনি দারুল উলূম করাচিতে যোগদান করেন এবং ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত সেখানে হাদীস-তাফসির পাঠদান ও ফতোয়া প্রদানের দায়িত্ব পালন করেন।
তাঁর রচিত ৭৫ টিরও অধিক গ্রন্থে ইসলামী সমাজতত্ত্ব, পারিবারিক নীতি, ফিকহ, আখলাক ও আত্মশুদ্ধির বিষয়বস্তু সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য রচনাসমূহ হলো— তোহফা-ই-খাওয়াতীন, মারনে কে বাদ কেয়া হোগা, ইসলামী আদাব, হক্কুল ওয়ালিদাইন, আনওয়ারুল বয়ান, যাদুত তালিবিন ইত্যাদি।
মাওলানা আশেক ইলাহী বুলন্দশহরী রহ. জীবনের শেষ পর্বে মদিনায় হিজরত করেন এবং প্রায় পঁচিশ বছর সেখানে অবস্থান করেন। ২০০২ সালে তিনি ইন্তেকাল করেন এবং উনাকে জান্নাতুল বাকিতে দাফন করা হয়।