ছাদে এসে দাঁড়ালে যখন বাতাস এসে ছোঁয় আমাকে, তখন খুব মন খারাপ হয় আমার। মার কথা মনে... পড়ে—আমার মা কখনও এই বাতাসে দাঁড়াতে পারেনি। সারাজীবন কখনও দাঁড়ায়নি ওই বাতাসে। কখনও শোনেনি বাতাসের কথা। অথচ, মা তো এই রকম একটা ছাদ—একটা চিলেকোঠার স্বপ্ন দেখত। স্বপ্ন দেখত আকাশ আর বাতাসের। অথচ, সেই বাতাসবিহীন ঘোর অন্ধকার কবরে এখন আমার মা।
গল্পের নাম: ফিসফিসিয়ে বাতাস বলে
বইয়ের নাম: ধ্রুব এষ নেই কোত্থাও
লেখক: আসমার ওসমান
প্রকাশক: বিদ্যাপ্রকাশ, ৩৮/৪ বাংলাবাজার, ঢাকা ১১০০।
প্রচ্ছদ: ধ্রুব এষ
মূল্য: ২০০ টাকা
পাঠ-প্রতিক্রিয়া: কোন বেকুব বুদ্ধিজীবী যেন মন্তব্য করেছিল, পৃথিবীর সব গল্প না কি লেখা হয়ে গেছে। এখন যা লেখা হয়, তা না কি নতুন বোতলে পুরনো মদ।ভুল। আসমার ওসমান নিয়মিত প্রমাণ করে চলেছেন, পৃথিবীর অনেক গল্পই এখনও লেখা বাকি। যে সব বিচিত্র বিষয় নিয়ে তিনি গল্প লেখেন, তা তার আগে আর কেউ হয় তো কল্পনাও করেন নি।গত বছর লেখকের 'আমাদের এই বিষণ্ন নগরী' উপন্যাসটি পড়ে অন্য রকম ভাল লাগায় আক্রান্ত হয়েছিলাম। এ বছর 'ধ্রুব এষ নেই কোত্থাও' মুগ্ধতার পারদ ওপরে তুলে দিল আরও।'আমার মেয়ের গন্ধ' গল্পটি ছোট গল্পের ধারায় একটি অসাধারণ কাজ হয়েছে। পড়ার পর দেথি, চোখের কোণ চিকচিক করছে। তেমনি 'ফিসফিসিয়ে বাতাস বলে'। অদ্ভুত। অসাধারণ। 'ঝুম বৃষ্টির রাত' গল্পে চমৎকার আবহ তৈরি করেছেন লেখক। শেষ দিকে এসে হার্টবিট মিস করেছি একটা। দুইটা হার্টবিট মিস করেছি 'বাম দিকের শেষ বাড়িতে' পড়ে। 'আমাদের ভূগোল বইতে আফ্রিকা' পরিশ্রমী একটি কাজ। 'খুব উঁচুতে দাঁড়ালে' আপনাকে ভাবাবে। বইয়ের অন্য গল্পগুলো হচ্ছে: এটা প্রেমের গল্প হতে পারত, আয়নাতে ঐ মুখ দেখবে যখন এবং ভদ্রতার বাইরে গেলে। আর আছে একটি ছোট উপন্যাস—ধ্রুব এষ নেই কোত্থাও। সাররিয়েল ঘরানার। মন কেমন করে উঠতে বাধ্য। সবগুলো লেখাই মানবমনের বিচিত্র গতিপ্রকৃতি নিয়ে।
By: Duke John