গল্প দুইভাবে লেখা যায়- বানিয়ে ও দেখে। মনি অধিকারী শেষোক্ত তালিকার লেখক। যাপিতজীবনে প্রতিদিন অসংখ্য ঘটনা ঘটেই চলেই চলেছে। কে না জানে, চারপাশে ঘটে চলা ঘটনাগুলোই সত্যিকারের গল্প। ‘সত্যিকারের’ গল্প লিখতেই এ লেখার আগ্রহ বেশি। সেটা নিজের হোক বা অন্যের। বলা চলে, মনি অধিকারী গল্প লেখেন না, গল্প দেখেন। তাঁর দেখা জিনিসটাই নিজস্ব দর্শন আর প্রজ্ঞার মিশেলে গল্প ওঠে। দীর্ঘ ৭ বছর যাবত বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত কিছু লেখার সংকলন এ-বই। অপ্রকাশিত কিছু গল্পও স্থান পেয়েছে।
তেজস্বী এ লেখকের কলমে এমন কিছু আছে, যা সহজেই পাঠককে টেনে নেয় কাহিনীর গভীরে। তাঁর গল্প পড়া শুরু করলে শেষ না করা পর্যন্ত স্বস্তি থাকে না পাঠকের। বর্ণনাভঙ্গি সহজ, সরল, আটপৌরে। পাঠকের মনে হয়- তারা পড়ছেন না, একটি গল্প শুনছেন। স্বয়ং লেখক সামনে বসে শুনিয়ে যাচ্ছেন।
তাঁর প্রায় প্রতিটি গল্পই ভ্রমণের। মানে ভ্রমণে গিয়ে গল্প বা ভ্রমণকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা গল্প। ভ্রমণের বাইরে কম গল্পই আছে। ভ্রমণ-প্রিয়তাও লেখককে আলাদা করেছে; বৈশিষ্ট্যমণ্ডিতও।
মনি অধিকারী কুশলী হাতে একের পর এক জানালা খুলে দিতে থাকেন, তাতেই পাঠকের চকিতে দেখা হয় যায় অনেক কিছু! কোনো কোনো দৃশ্য আনন্দের বা বিষাদের, আবার কোনোটি নির্মমভাবে দুমড়ে-মুচড়ে দেয় পাঠকহৃদয়।