রহমান তৌহিদের প্রথম রম্যগ্রন্থ নিরাপদ রসিকতা পড়ে চমৎকৃত হলাম। দৈনন্দিন জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো রসিকতার মোড়কে পুরে পরিবেশন করেছেন লেখক। তার কিছু রম্য রচনা পাঠকের চিন্তার খোরাক হতে পারে যেমন: চিহ্ন রেখে যাওয়া, ইতরপনা কা র্য, রাজ দর্শন পুণ্যের কাজ, উজান গাঙের নাইয়অ, বাঁশমতি, সত্য নিয়ে কয়েক ছত্র ইত্যাদি।
সবচেয়ে ভাল লেগেছে যে লাইনগুলো তা হল :
দেবদাস কোনোকালে মদ খেয়েছিল কিনা আর আদৌ দেবদাস বলে কেউ ছিল কিনা তাই বা কে জানে? মদ্যপ ব্যক্তিকে ঘৃণা করার সরল অংক তাই জটিল হয়ে যায়। আমরা দেবদাসকে ভালবেসে ফেলি। হাজার হাজার মিথ্যা চরিত্র আমাদের আপন হয়ে যায় - পর হয়ে যায় সত্য।
সত্য হলো এডিডাস কোম্পানীর তৈরি ফুটবলের মতো গোলকার আর বায়ুপূর্ন; হাজার লাথিতেও সে তার আকার পরিবর্তন করে না। সমাজভেদে মূল্যবোধের কিছু পরিবর্তন হয়, কিন্তু মৌলিক বিষয়গুলো সব সমাজেই বিদ্যমান। সারা পৃথিবীর শিশুর কান্না যেমন এক, তেমনি এক সত্যের আবয়ব। গোলাপকে যে নামেই ডাকুন না কেন , তার সুগন্ধ একটুও কমে না।
সত্য করলার মতো তিতা; অনেকেই তাই খেতে চায় না। কিন্তু, একবার খাওয়া অভ্যাস করলে বোঝা যায় এতে ক্ষুধামন্দা দূর, রক্ত পরিষ্কার হয়।