শিমু সশব্দেই এখলাসকে বলল, ‘এত বয়স বয়স কোরো না। বয়স তো কেবল একটা সংখ্যা—একুশও যা, সাতাশও তা, সাঁইত্রিশও একই কথা।’
বিয়ের আগে এখলাস যখন শিমুকে বয়সের কথা বলেছে, তার মনে হয়েছিল, বিয়ে ভেঙে দেওয়ার এটাও একটা হুমকি। সেদিন এখলাসের সঙ্গে কথা শেষ করে ঘর থেকে শিমু বেরিয়ে যায় তোতলা শমসেরের খোঁজে। ঢাকা কলেজে কেবল তরুণদের ভিড়ে একটি মাত্র তরুণী, সে শিমু; সে জনে জনে জিজ্ঞেস করে ওই যে শমসের—একটু তোতলায়, ভালো তবলা বাজায়, নাকটা খাড়া, চোখ খুব উজ্জ্বল, একাত্তরে বিএর ছাত্র। কেউ শনাক্ত করতে পারে না। নামের রেজিস্টার দেখে একজন বলল, ‘শমসের নামে বিএ-তে আমাদের কোনো ছাত্র ছিল না—সত্তরেও না, একাত্তরেও না, এ বছরও নেই।’
‘কিন্তু আমি তো তা-ই জানতাম।’ শিমু বলল কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে।
‘আপনি ভুল জানতেন। দেশটা ঠগ-প্রতারকে ভরে গেছে।’
তারই পাশে বসা অন্য আরেক কেরানি বলল, ‘আমাদের মাইজদিতে শমসের নামের এক মুক্তিকে জিপের সঙ্গে বেঁধে তিন মাইল হেঁচড়ে নিয়েছে। আধমাইল টানার পরই তাঁর মৃত্যু হয়। পরের আড়াই মাইল না টানলেও চলত।’
শিমুর পা টলছে। কেরানিকে বলল, ‘একটু বসি।’
‘এটা ব্যাটাছেলেদের কলেজ। এখানে মেয়েমানুষ বসতে পারবে না।’
মাথাটা চক্কর দিল শিমুর, শরীরটা মনে হলো ওজনশূন্য। যেখানে দাঁড়িয়েছিল, সেখানেই বসে পড়ল। কোনোভাবে মাথা ঘুরানো ব্ল্যাকআউট কাটিয়ে উঠে বলল, ‘আমার মনে হয় আমি এই শমসেরের কথাই বলছি।’......।