"পুলক অনিল। বিজ্ঞাপন কর্মী। গত বছর কবি হয়েছিলেন। এ বছর ঔপন্যাশিক। আগামী বছর রিক্সাচালক হবেন না কি নাপিত হবেন, তা কারো জানা নেই। সম্ভবত তারও জানা নেই।
তবে, তার মূলধন- 'অক্ষর, শব্দে, বাক্যে, গল্প বলার অসাধারণ ঢং'-এর কারণে তার রিক্সার যাত্রী গন্তব্য পেরিয়ে একটু দুরেই নামবে। চুল কাটাতে এসে আরেকটু সময় নিয়ে সেভ আর গা মালিশ্টাও করিয়ে যাবে।
২০১৪ সালে কবিতার বই প্রকাশ করাটা ছিল তার জন্য একটি 'ফর্মালিটি' মাত্র। কাজে, স্ক্রিপ্টে, কবিতায়, উপন্যাসে, তিনি যে গল্পগুলো বলেন, তার সবটাই কবির চোখে দেখা।
মূলতঃ কবি পুলক অনিল তাই বাচ্চার ডায়াপার কিনতে কবিতা পান। স্ত্রীর জলদি ঘরে ফেরার ধমক-ফোন কলে কবিতা পান। তিনি কবিতা পান সফলতায়, ব্যর্থতায়, অপেক্ষায়, এক জায়গায় ঠায় আটকে থাকায়।
আমার দেখা পুলক অনিল, 'কালার ব্লাইন্ড' মানুষের আদলে 'রিয়ালিটি ব্লাইন্ড'। তার জগতের চায়ে এক চামচ কনডেন্সড দুধের সাথে এক চামচ কবিতা মেশানো খুবই বাস্তবসম্মত।
সেই জগতের টুরিস্ট ভিসা সব সংসারী পায় না। পুলক অনিল সেই জগতের সিটিজেন।"
-অনিক খান
ছড়াকার; নির্বাহী সম্পাদক - মাসিক উন্মাদ পত্রিকা