মনে হলো বহুদূর থেকে মোরগের ডাক ভেসে আসছে। শোভনের ঘুম ভেঙে গেল।
একলাফে বিছানা ছাড়ল সে। শীতের সকাল। আর কদিন বাদেই রূপ-রঙ নিয়ে
হাজির হবে বসন্ত। বিল-ঝিলে পানি শুকিয়ে তলানিতে ঠেকেছে। বেশ কয়েক
বছরের মতো এবছরও তাদের মাছধরার পরিকল্পনা পাকা করা রয়েছে। সেই
সকালে খালের ধারে প্রথমে মাটির আইল তৈরি করে তার পরে পানি সেচে মাছ
ধরার কথা। এজন্য চার-পাঁচ দিন আগেই তারা জায়গা নির্বাচন করে গেছে।br সে
জায়গায় যাতে দূর থেকে মাছ এসে জড়ো হতে পারে তার জন্য নির্ধারিত জায়গায়
ডালপালা বিছিয়ে মাছেদের জন্য একটা নিরাপদ স্থান তৈরি করা হয়েছে। সব
শেষে মাছদের বাড়তি আকর্ষণ সৃষ্টির জন্য গত সন্ধ্যায় চার ফেলা হয়েছে। দীর্ঘ
সময় ব্যয় করে আর কায়িক পরিশ্রম দিয়ে পানি সেচে যে মাছ মেলে; তা গায়ে
মাটি কাদা মেখে যে আনন্দ পাওয়া যায় তার একটা ভগ্নাংশ মাত্র। হাত দিয়ে পানি
সেচে তো আর মাছ ধরা সম্ভব নয়। তাই তার জন্য প্রয়োজন আনুসঙ্গিক কিছু
সরঞ্জামের। যেমন গামলা, কোদাল, হাঁড়ি, লাঠি, ছোট জাল ইত্যাদি। তাই তারা
পাকা করে নিয়েছিল কে কী আনবে।