#রকমারি_বইপোকা_রিভিউ_প্রতিযোগিতা
অ-নে-ক দিন আগের কথা। এক ছিল গরীব কাঠুরে। তার ছিল তিনটি মেয়ে। তার মধ্যে ছোটটি ছিল সব থেকে সুন্দরী।
একদিন বনের মধ্যে হঠাৎ কোথা থেকে এক ভয়ানক ভালুক তেড়ে এসে তার হাত মুচড়ে কুঠারটা কেড়ে নিল! হুঙ্কার দিয়ে বলল, "তুমি আমার কাঠ চুরি করেছ! এবার তোমাকে নিজের প্রাণ দিয়ে এর দাম দিতে হবে"। বেচারা কাঠুরে কেঁদে বলল আমার তিনটে ছোট ছোট মেয়ে, আপনি যদি আমাকে মেরে ফেলেন, তাহলে তো ওরা না খেতে পেয়ে মারা যাবে"।
খানিক ভেবে ভালুক বলল- "তোমার বাঁচার একটাই মাত্র উপায় আছে। তোমার যে কোন একটি মেয়ের সাথে আমার বিয়ে দাও"। কাঠুরে তো হতবাক! তারপরে যখন ভেবে দেখল যে সে মরে গেলে তার মেয়েগুলি আশ্রয়হীন হয়ে পড়বে, তখন সে ভালুকের প্রস্তাব মেনে নিল। খেতে বসে তার তিন মেয়েকে বললে সব কথা। কিন্তু বড় ও মেঝো মেয়ে কেউ বাবাকে বাচাতে রাজি হলো না। তখন ছোট মেয়ে বলল- "বাবা, আমি ভালুককে বিয়ে করব।
বিয়ের পরে ভালুক তাকে নিয়ে জঙ্গলের গভীরে নিজের গুহার দিকে রওনা দিল। অন্ধকার ঘনিয়ে আসতেই জোরালো গলায় ভালুক এক মন্ত্র আওড়ালো আর সাথে সাথে ভালুক বদলে হয়ে গেল এক সুন্দর রাজপুত্র। সে বলল- "আমি এক অভিশপ্ত রাজকুমার; এক ডাইনির অভিশাপে আমি দিনে ভালুক হয়ে যাই, আর রাতে আবার মানুষ হয়ে যাই। একটাই শর্ত- তুমি কাউকে বলতে পারবে না যে আমি একজন অভিশপ্ত রাজকুমার।"
কিছুদিন পর সে বাবার বাড়ি বেড়াতে এলো। তখন তার বোনেরা ভালুকের সম্পর্কে খারাপ খারাপ কথা বলতে থাকল। সে তখন রাগের মাথায় বোনদের সব বলে দিল। হিংসায় দিদিরা তাকে এক খারাপ বুদ্ধি দিলো।
গুহায় ফিরে এসে দিদির কথামত ভালুককে ভালমন্দ খেতে দিল। পরের দিন সকাল বেলা ঘুম ভেঙে উঠে ভালুক তো অবাক হয়ে গেল তার নিজের হাত-মুখ বাঁধা দেখে। তার ইশারায় ছোট মেয়ে মুখের এবং হাতের বাঁধন খুলে দিল। তখন রাজপুত্র তাকে করুণ স্বরে বলল- "তুমি তোমার শপথ ভেঙে ফেলেছ নিন্ফা; এখন তোমাকে এর ফল ভোগ করতেই হবে; এই অভিশাপ থেকে আমি মুক্ত হতে পারতাম যদি তোমার সাথে এক বছর এক দিন থাকতে পারতাম। কিন্তু তুমি তো সেটা হতে দিলে না। আমি এখন চলে যাচ্ছি। তোমাকে এবার আমাকে খুঁজে নিতে হবে। আর তার জন্য তোমাকে আগে খুঁজে বার করতে হবে ‘বিশ্বাসের প্রাসাদ’।
তারপর কি হয়েছিল? সে কি খুজে পেয়েছিল বিশ্বাসের প্রাসাদ?? ফিরে পেয়েছিলো রাজপুত্রকে??? জানতে হলে পড়তে হবে বইটি।