গ্রামের নাম রসুলপুর। ময়মনসিংহ সদর থেকে বত্রিশ কিলোমিটার দূরে ছোট্ট একটি গ্রাম। ময়মনসিংহ এবং টাঙ্গাইল শহরের মধ্যবর্তী সংযোগ সড়কের ছোট একটি বাসষ্ট্যান্ড। গ্রামের মানুষগুলো নিতান্তই সহজ-সরল। কৃষিকাজ করে, পাশের মধুপুর গড়ের কাঠ কেটে, গড়ের মধ্যের সরকারি জমিতে আনারস, লেবু, কলা চাষ করে স্বচ্ছল না হলেও মোটামুটি ভালভাবেই দিন কেটে যায় তাদের। গ্রামে চল্লিশ ঘরের মত মুসলমানের বাস। আট দশটি হিন্দু পরিবারের বাস, তারা থাকে গ্রামের শেষ প্রান্তে ছোট্ট নদী 'বানার' এর তীর ঘেঁষে।br কারও মধ্যে বড় ধরনের কোন বিবাদ নেই। মুসলিম হিন্দু মিলেমিশেই থাকে। রসুলপুর গ্রামটি পেরুলেই মধুপুর গড় শুরু। গজারী বা শাল গাছের জন্য এ বন বিখ্যাত। গড়ের অনেক গহিনে আদিবাসী গারোদের বাস। গারোরা অনেকটা আত্মকেন্দ্রিক। গড় ছেড়ে সচরাচর বের হয়না। কদাচিৎ বাজার সদাই করার জন্য রসুলপুরে আসে। গ্রামবাসীর সাথে তাদের সম্পর্কও ভালো। গ্রামের বেশির ভাগ ঘরই খড়ের ও মাটির। তবে ইদানিং দু একটি ঘরের চালে টিন উঠেছে। গ্রামের একমাত্র পাকা বাড়িটি শফিকুল ভূঁইয়ার।