মনোরঞ্জন দের লেখা ‘কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি’। কারিগরি জ্ঞান, অধ্যাত্ববাদ, বিজ্ঞান, ব্যবসা-বাণিজ্য, রাজনীতি ইত্যাদি সব কিছুর মূলেই রয়েছে সেই আদিম মানব সমাজের কৃষির বৈপ্লবিক উদ্ভব ৷ কৃষি অর্থনীতি একটি সম্পুর্ন প্রয়োগিক অর্থনৈতিক বিজ্ঞান। অর্থনীতির বিভিন্ন নীতি যখন কৃষি ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয় তখন তাকে কৃষি অর্থনীতি বলে। এটি মুলত ফসল, গৃহপালিত পশু ও মৎস্য উৎপাদন ও উৎপাদিত পণ্যের সুষ্ঠ বিপণনের ক্ষেত্রে অর্থনীতির বিভিন্ন নীতি প্রয়োগ করে। কৃষি অর্থনীতি বিভিন্ন প্রায়গিক বিষয়ের সমন্বয় এবং কিছু ক্ষেত্রে প্রচলিত অর্থনীতির সঙ্গে পুনরাবৃত্তি হয়ে যায়।কৃষি অর্থনীতি কৃষক কে বিভিন্ন ফসল, পশু, মাছ ইত্যাদির লাভজনক প্রজাতি নির্বাচন ও উৎপাদন করতে পরামর্শ প্রদান, ফসল উৎপাদনের জন্য জমি নির্বাচন ও তাতে বিভিন্ন ইনপুট যেমন সার, বীজ, পানি ইত্যাদি ব্যবহারে দিক নির্দেশনা প্রদান, কৃষি ঋণ গ্রহণ ও এর যথার্থ ব্যবহারে তথ্য প্রদান, কৃষি সম্পদের সুষ্ঠ ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান, কৃষি পণ্য বিপণন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করে এবং সর্বোপরি জাতীয় অর্থনীতির বিবেচনায় কৃষি বিষয়ক বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহনে সহায়তা করে । কৃষি অর্থনীতি ব্যাংকিং বিষয়ক তত্ত্বীয় ও ব্যবহারিক শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতে অবদান রাখতে সহায়তা করে। কৃষি অর্থনীতি ক্ষুদ্র ও মাঝারী উদ্যোক্তা তৈরিতে শিক্ষা প্রদান, কৃষি ব্যবসা পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ক শিক্ষা প্রদান, ফার্ম ব্যবস্থাপনা বিষয়ক শিক্ষা প্রদান, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও গবেষণা বিষয়ক শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে গ্রামীণ জনপদের দারিদ্র্য দূর করে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনয়নে সহায়তা করে।
Was this review helpful to you?
By murad, Jun 15, 2017
লেখক মনোরঞ্জন দের লেখা কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি বইটি। লাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। এদেশে শতকরা ৭৫ ভাগ লোক গ্রামে বাস করে। বাংলাদেশের গ্রাম এলাকায় ৫৯.৮৪% লোকের এবং শহর এলাকায় ১০.৮১% লোকের কৃষিখামার রয়েছে। মোট দেশজ উৎপাদন তথা জিডিপিতে কৃষিখাতের অবদান ১৯.১% এবং কৃষিখাতের মাধ্যমে ৪৮.১% মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে। কৃষি এ দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। দেশ কৃষিনির্ভর হওয়ায় দারিদ্র্য দূরীকরণ ও গ্রামীণ উন্নয়নে কৃষি অর্থনীতির গুরুত্ব অনেক। আর এ গুরুত্ব থেকেই বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সরাসরি কৃষি অর্থনীতি পড়ানো হচ্ছে। কৃষি অর্থনীতির রয়েছে বহুমাত্রিক কর্মক্ষেত্র। দিন দিন ক্ষেত্রগুলো আরও বিস্তৃত হচ্ছে।
সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে তো বটেই, কৃষি অর্থনীতির গুরুত্ব উপলব্ধি করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও এ বিষয়ে পাঠদান করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিষ্ঠিত এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি ব্যবসা ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক এ কে এম গোলাম কাওসার বলেন, কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির উন্নয়নে এ দেশে কৃষি অর্থনীতি গ্র্যাজুয়েটদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গুরুত্ব উপলব্ধি করে কৃষি অর্থনীতিবিষয়ক কোর্স চালু করছে।
কৃষি অর্থনীতি বিষয়ে পড়ে দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে পারেন। কৃষি অর্থনীতি গ্র্যাজুয়েটরা সরকারি কর্মকমিশনের আওতাভুক্ত বিসিএসের যেকোনো সাধারণ ক্যাডারে আবেদন করতে পারেন। একই পরীক্ষার মাধ্যমে কিছুদিন আগে টেকনিক্যাল ক্যাডারে কৃষি বিপণন কর্মকর্তা পদ সৃষ্টি হয়েছে। যেকোনো সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকে রয়েছে চাকরির সুযোগ। কৃষিভিত্তিক ব্যাংকগুলোতে প্রাধান্য বেশি দেওয়া হচ্ছে।