মাস্টার অভ দ্য ওয়ার্ল্ড
জুল ভার্ণ
.
কাহিনি সংক্ষেপ
যেহেতু এটা ভলিউম বই, বইয়ের ফ্ল্যাপে কাহিনি সংক্ষেপ ভালো করে সাজিয়ে লেখা নেই। আমি নিজের মত করে লিখছি।
নর্থ ক্যারোলিনা গ্রেট-আইরীর চূড়োতে আগুল দেখে সাধারন মানুষ আঁতকে উঠলো। তাহলে কি ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরি আবার জেগে উঠলো? লক্ষণ দেখে তো তাইই মনে হয়। তাই জ্বালামুখ অনুসন্ধান করার জন্য বেলুন উড়লো আকাশে। কিন্তু সেটা হল ব্যর্থ। রাতে আগুনের শিখা দেখে সবাই অগ্নুৎপাতের ভয় পেলেও পরে বোঝা গেল অযথা ভয় পাচ্ছিল সবাই। কিন্তু এই জ্বালামুখে অদ্ভুত ঘটনাগুলির ব্যাখ্যা কী?
.
রহস্য উদঘাটনে বেরিয়ে পড়লো কয়েকজন মানুষ। কিন্তু তাতে ব্যর্থ হল।
কিন্তু এরপর এল আরেক উত্তেজনা। ঝড়ের বেগে ছুটে যাওয়া গাড়ি, আশ্চর্য গতিসম্পন্ন জাহাজ আর লেক কারভালে সাবমেরিন - এগুলি কোত্থেকে উঠে এল? কে তৈরি করলো এতসব আধুনিক বাহন? কেউ কেউ তো কিছু আলামত দেখে ভাবলো মেশিন তিনটা নয় একটাই! এরকম অসম্ভব একটা যন্ত্র যে বানালো, কীভাবে বানালো? আর তৈরিই যেহেতু করলো, এত লুকোছাপা কিসের? এটা তো অমূল্য সম্পদ হতে পারে রাষ্ট্রের জন্য। কিন্তু লুকিয়ে রেখেছে কেন? এটা নিয়ে তার উদ্দেশ্যটা কী?
পাঠপ্রতিক্রিয়া
.
মেরী শেলি কল্পবিজ্ঞানের প্রথম বইটা লিখলেও ফরাসি লেখক জুল ভার্নকে বলা হয় কল্পবিজ্ঞানের জনক। অসামান্য সব বিজ্ঞান কল্পকাহিনী রচনার জন্য জুল ভার্ন বিখ্যাত। উড়োজাহাজ, রকেট কিংবা সাবমেরিনের বাস্তবিক ও ব্যবহারিক প্রয়োগের অনেক পূর্বেই তিনি মহাকাশ ভ্রমণ ও সমুদ্রের তলদেশে ভ্রমণের কল্পকাহিনী লিখেছিলেন। এই বইটা ওরকম একটা বই।
.
আমি চিন্তা করে পাই না, একজন লেখক এসব আবিস্কারের পূর্বেই কী করে এতসব অত্যাশ্চর্য মেশিন কল্পনা করে লিখলেন! তিনি যদি লেখক না হয়ে বিজ্ঞানী হতেন, তাহলে হয়তো এসবকিছু তাঁর হাত ধরেই আবিস্কৃত হত।
.
গল্পে এমন একটা মেশিনের কথা বলা হয়েছে, যেটা একাধারে স্থলে চলতে পারে, পানিতে ভাসতে পারে, এমনকি পানির নিচেও বহাল তবিয়তে টিকে থাকতে পারে। এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় রূপান্তরিত হতে পারে নিমিষেই! সত্যি বলতে এমন যন্ত্র এখনো আবিস্কৃত না হলেও
জাহাজ - সাবমেরিন তো তৈরি হয়েছেই। আরো একটা যোগ্যতা আছে এই যন্ত্রের, সেটা এই কাহিনির জন্য খুব বড়সর একটা টুইস্ট। তাই উল্লেখ করছি না।
.
শেষটা চমকপ্রদ। যদিও কিছুটা অনুমেয়। কিন্তু এন্ডিং ছাড়া আর কোন এন্ডিং মাথায় আসছে না। এই ফিনিশিংটাই এই বইয়ের জন্য পারফেক্ট।