নির্বেদ রায়ের 'জান্তব' এর রিভিউ দিতে দুইটা বাক্যই যথেষ্ট-
১. শ্রদ্ধেয় ময়ূখ চৌধুরীর উপযুক্ত ট্রিবিউট।
২. এরকম বৈচিত্র্যময় (diversified) শিকার কাহিনী বাংলা সাহিত্যে বিরল।
বইয়ের পাতায় পাতায় ময়ূখ চৌধুরীর জীবন্ত স্কেচ। তাছাড়া লেখক বইটি উৎসর্গই করেছেন ময়ূখকে, তাঁর কাছে নিজের কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেছেন, অজান্তে করেছি আমিও। ময়ূখ চৌধুরীর মত শিকার কাহিনীর অনুবাদ আর চিত্রায়ণ বাংলা সাহিত্যে কেউ করতে পারেননি, পারবেনওনা। তবে নির্বেদ রায়ের নিরহংকার প্রচেষ্টাকে কুর্নিশ।
প্রচলিত শিকার কাহিনী মানে ঐ বাঘ আর সিংহ। এদিক দিয়ে জান্তব আলাদা। কোন ধরণের প্রাণী চান? সবাই হাজির। হাতি (মাত্র আধ ইঞ্চির জন্য), বন্যশূকর (দ্বৈরথ), ডিংগো (এবার আমার পালা), বাইসন (প্রতিধ্বনির অভিশাপ), ভাল্লুক (ইসবর্ণ), কুমির (বেসার বুয়াইয়া), এলিগেটর (আশ্চর্য নরখাদক), কোমোডো ড্রাগন (বিংশ শতাব্দীর নরখাদক), গন্ডার (গন্ডারের বিভীষিকা), ছাগল (পার্বতী) এমনকি মালবাহী খচ্চর পর্যন্ত পাবেন (নীল পাহাড়ের আতঙ্ক)। একটা নিরীহ খচ্চর পর্যন্ত কেমন খুনী হয়ে উঠতে পারে তা কাহিনীটা না পড়লে জানতামইনা!
বইয়ের দুটা লেখার কথা বলব স্পেশালি। 'ওরা কেউ ফেরেনি' - আমাজনের গভীরের হিংস্র কাট্রিমানি উপজাতির বিবরণ।
আরেকটা 'হরিণ নিরীহ নয়' - দুটি কাহিনীর সমন্বয়, দুটিই দুজাতের এন্টিলোপ নিয়ে (সেরাও আর অরিক্স)। সুপরিচিত ভীরু নিরীহ পলায়নরত হরিণও যে মাঝে মাঝে কিরকম রক্তলোলুপ হয়ে ওঠে তার জলজ্যান্ত দলিল এই লেখাটি। লেখার মাঝে একটা দু পাতা জুড়ে আঁকা দুর্দান্ত ছবিও আছে- অরিক্সের শিঙে ঝুলছে হতভাগা শিকারী। সবমিলিয়ে এই লেখাটা পুরা বইয়ের সর্বশ্রেষ্ঠ।
লেখায় ময়ূখ চৌধুরীর প্রভাব আছে। সুন্দর অনুবাদ। রিকমেন্ডেড। আর দ্বিতীয় সংস্করণে ঘনকালো প্রচ্ছদটাও দুর্দান্ত। মোট একুশটা কাহিনী নিয়ে বইটি প্রকাশ করেছে পত্রভারতী। রেটিং ৫ এ ৫।