5 verified Rokomari customers added this product in their favourite lists
TK. 210TK. 189 You Save TK. 21 (10%)
তিন মাস হতে চলল এই বাদা অঞ্চলে এসেছি। যাকে বলে সুন্দরবন। মনে হচ্ছে এখানে আমার থাকা সম্ভব হবে না। এখানকার ঘরবাড়ি, জমিজমা, চিংড়ি মাছের ঘের সব বিক্রি করে আবার সিলেটের চা বাগানেই ফিরে
নিম্নবর্গের মানুষের জীবনচিত্র অনায়াসে ফুটিয়ে তোলার অসামান্য দক্ষতা অর্জন করেছেন মনি অধিকারী। চারদিকে পোড়খাওয়া মানুষের সংখ্যাই বেশি। এদের জীবনযাপন, সমস্যার ধরন বহুমুখী ও বিচিত্র। কি স্বদেশে, কি বিদেশে। নীড়হারা পাখি বইয়ে স্বদেশের পাশাপাশি বিদেশি প্রোপটেও গল্প লিখেছেন লেখক। এসব গল্পে তুলে এনেছেন সমাজের লাঞ্ছিত-বঞ্চিত মানুষের ‘অদেখা অচেনা’ জীবনকাহিনী। ‘তুচ্ছ’ মানুষের ছবিটিও এঁকেছেন গভীর মমতায়, শিল্পীসুলভ ভালোবাসায় স্নাত করেছেন চরিত্রগুলোকে। এমন কিছু গল্প আছে- পড়ে চমকে যেতে হয়। না চমকে উপায় নেই। বাস্তবে এমন অনেক কিছুই ঘটে চলেছে, যা কল্পনাকেও হার মানায়। সব লেখক ঐ কঠিন প্রান্তর মাড়ান না।
সংস্কারমুক্ত লেখক মনি অধিকারী এমন সব চরিত্রের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন কখনো মনে হয় খুব চেনা, আবার কখনো মনে হতে পারে এটা দূর কোনো পৃথিবীর। যেহেতু অভ্যস্ত চোখে সব বাস্তবতা স্বীকার করার মানসিকতাও তৈরি হয়নি সবার। জীবনের পরিধি কতটা বিস্তৃত, তার বহুরৈখিকতা, জীবন আসলে কেমন- রূঢ়, নির্মম পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেন পাঠককে। পাঠকের পালানোর পথ থাকে না। এ তার দেশের শাশ্বত ছবি, এ মুখ চিরপরিচিত মানুষগুলোর।
মনি অধিকারী সফল শিল্পীর মতো তিনি একের পর এক এঁকে চলেছেন মানুষের মুখচ্ছবি। যে মুখগুলো অসংখ্য গল্প বয়ে বেড়ায়।