33 verified Rokomari customers added this product in their favourite lists
TK. 250TK. 239 You Save TK. 11 (4%)
“প্রতিদ্বন্দ্বী" বইটির ভূমিকা থেকে নেয়াঃ
‘প্রতিদ্বন্দ্বী' উপন্যাসের কাহিনিকাল আদিমযুগ থেকে বর্তমান পর্যন্ত ছড়ানাে। মানুষের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু হয়েছে সেই আদিমক
অর্থের লোভে অমিতাভ তার ছেলে তনয়কে কদাকার শ্রাবণীর সাথে বিয়ে দেয়। শুধুমাত্র বাহ্যিক দিক থেকেই শ্রাবণী কদাকার নয়, তার মন আরো কুৎসিত। তবুও ভাগ্যের নির্মম পরিহাস মেনে নিয়ে তনয় তার সংসার গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে যায়। কিন্তু একা তো সম্ভব না। সংসার এমন এক জগৎ যেখানে স্বামী স্ত্রীর সন্মিলিত প্রয়াসে সুখময় হয়ে ওঠে। তনয় যতই নমনীয় হওয়ার চেষ্টা করে শ্রাবণী ততই রুঢ় ব্যবহার অব্যাহত রাখে। সংসার জীবনের এই বিড়ম্বনায় অতিষ্ঠ হয়ে একসময় তনয় নিজের জীবনকে শেষ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
মুক্তিযুদ্ধের সময় পরিবারের সবাইকে হারিয়েছেন বীরাঙ্গনা প্রতিমা। পরিবারের সবাইকে হারানোর সাথে নিজের সর্বস্ব লুন্ঠিত হলেও তাঁর একটা থাকার জায়গা আছে। তিনি এখন এখন শহরময় খালি পায়ে হেঁটে হেঁটে বই বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। খালি পায়ে হেঁটে হেঁটে প্রতিনিয়ত স্বাধীনতা বিরোধীদের মুখে পদাঘাত করে যাচ্ছেন। স্বাধীনতার চেতনা নিজেদের মধ্যে লালনকারী স্থানীয় কিছু যুবকের প্রতি প্রতিমার বিশেষ প্রভাব রয়েছে। তারা প্রতিমার কাছে আসে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানতে, সংগ্রামময় স্বাধীনতার গল্প শুনতে।
একাত্তরের হানাদার বাহিনীর তাণ্ডবের হাত থেকে কুমিল্লার দত্ত বাড়ির কিছু অংশ রক্ষা পায়। সেখানেই এখন প্রতিমার বসবাস। বিস্তৃত জায়গা জুড়ে দত্ত বাড়ির অবস্থান। তনয়ের ভূমিলোভী শ্বশুর মিহির দাসের নজর পড়ে সেদিকে। জমিটা দখল করতে সে চরম মাত্রায় উদ্যত। নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে প্রতিমা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। মিহির দাস একের পর এক কূটচাল চেলে যায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কি প্রতিমা পরাস্ত হবে? একজন বীরাঙ্গনার মানমর্যাদা কি ধুলায় মিশিয়ে দিতে পারবে মিহির দাস? নাকি এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে এগিয়ে আসবে কেউ?
মানুষের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু হয়েছে সেই আদিমকাল থেকে। অর্থ, সামর্থ্য, ভূমি, নারী - এসবের জন্য মানুষের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলেছে, চলছে, চলবে। সেই চিরন্তন দ্বন্দ্বকে লেখক কাহিনির মোড়কে উপস্থাপন করেছেন এই উপন্যাসে।
এই উপন্যাসের কাহিনি আদিমযুগ থেকে বর্তমান পর্যন্ত ছড়ানো। সমসাময়িক বিষয়ের সাথে অতীতের ইতিহাস বর্ণিত হয়েছে। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের কিছু অন্ধকার দিক উঠে এসেছে। এই অন্ধকার কাটিয়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা, নতুন সূর্য।
লেখক সুচারুভাবে উপন্যাসের চরিত্র গুলো বিশ্লেষণ করেছেন। ভদ্র পোষাকের অন্তরালে যে অসভ্য বাসনা লুকিয়ে থাকে তা তুলে ধরেছেন। সময়ের বিবর্তনে এবং প্রয়োজনে চরিত্র গুলোর মাঝে বৈচিত্র্যতা লক্ষণীয়।
সংসার জীবনের জাতাকলে অনেকসময় আমরা অসহায় হয়ে পড়ি। তনয় চরিত্রের মাধ্যমে এমনই বিষয়টি ফুটে উঠেছে। তবে সংসারকে গুছিয়ে রাখার মতো বিষয় গুলোও লেখক জানিয়েছেন।
অর্থবান হওয়ার পরেও আরো অত্যাধিক অর্থের লোভ আমাদের অন্ধ করে দেয়। তনয়ের বাবা মিহির দাস এমনই একজন।
প্রথমদিকে সমসাময়িক সাংসারিক বিষয় গুলো পড়তে একটু আড়ষ্টতা পেয়ে বসেছিল। কিন্তু যখন অতীতের কাহিনি শুরু হলো তখন অন্যরকম ভালোলাগা কাজ করছিল। মহান মুক্তিযুদ্ধকে আলোকিত করা হয়েছে এর অন্ধকার দিকের মাধ্যমে।
বর্তমান ও অতীতের অভূতপূর্ব এক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মিশেলে এই উপন্যাস।