মাদাম কুরি- বিজ্ঞানের ছাত্রদের অতি পরিচিত একটি নাম। তাঁর প্রতি আমাদের, মানে বিশ্ববাসীর ঋণের দায় অনেক। ঘাতক ব্যাধি ক্যান্সারের চিকিৎসার যাত্রা যাঁর হাত ধরে পথ চিনেছে তিনি মাদাম কুরি। একমাত্র নারী যিনি দু-দুবার নোবেল পেয়েছেন, ইউরোপের প্রথম নারী যিনি ডক্টরেট ডিগ্রী পেয়েছেন। স্বামী পিয়ের কুরি, বড়মেয়ে আইরিন কুরি, মেয়ে জামাই ফ্রেড্রিক জুলিও কুরি, ছোট মেয়ে ইভ কুরির স্বামী হেনরি সবাই মিলে ছয় ছয়টি নোবেল তুলেছেন এক পরিবারে। এখনো পর্যন্ত একমাত্র পরিবার। পদার্থ- রসায়ন- শান্তি কোথায় নেই ইনাদের অবদান! বিজ্ঞান ছাড়াও তাঁদের নিজস্ব ব্যক্তিগত জীবন ছিলো, ছিলো আর দশটা মানুষের মত প্রেম ভালোবাসার জগত, ছিলো আমাদের হেফাজতের মতো উগ্রপন্থীদের নির্মমতা, ছিলো “ভদ্রলোকের” উৎপাত, ছিলো মিডিয়ার নির্যাতন।
আইরিনের স্বামী ফ্রেড ছিলেন ফ্রান্সের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। পুরো পরিবার প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন বিভিন্ন ভাবে। পেয়েছেন অবদানের জন্য রাষ্ট্রীয় সম্মাননা।
আমরা মাধবীলতা কিংবা দীপাবলির কাল্পনিক চরিত্র পড়ে উজ্জীবিত হই, শিখি কীভাবে চলার পথে ছাড় দিতে হয় কিংবা সংগ্রাম করতে হয়। মাদাম কুরি তেমনি এক বাস্তব চরিত্র। হাউজ গভর্নেস হয়ে যিনি উপার্জন শুরু করেছিলেন, এককাপ চা আর রুটি খেয়ে যিনি ছাত্রজীবন কাটিয়েছেন তিনিই নিজের শ্রমে, ঘামে, মেধায়, প্রজ্ঞায় প্রতিষ্ঠা করে গেছেন পৃথিবী বিখ্যাত গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফ্রান্সের “কুরি ইন্সটিটিউট”। জন্মেছিলেন পোলান্ডে। তাই তাঁর আবিষ্কৃত প্রথম মৌলের নাম রেখেছিলেন পোলনিয়াম, দ্বিতীয় আবিষ্কার রেডিয়াম। বিজ্ঞান নিয়ে ব্যাবসা করতে চাননি বলেই প্যাটেন্ট নেননি, নিজের সন্তান মনে করতেন এই সৃষ্টিকে। অথচ সেই সময় একগ্রাম রেডিয়ামের দাম ছিলো এক লাখ মার্কিন ডলার! মাদাম কুরির পরিবার আরো দুটি নোবেল ঘরে তুলতে পারতো, আইরিন ও ফ্রেডের গবেষণা ও পরীক্ষার উপর ভিত্তি করে পজিট্রন ও নিউট্রন আবিষ্কার করে নোবেল জিতেছেন অন্য দুইজন।
বেঁচে থাকার সংগ্রাম, ভালোবাসার জীবন, মৌলবাদের সাথে লড়াই করে বিজ্ঞানকে অনন্য সাধারণ স্থানে পৌঁছে দিয়েছেন যিনি সেই মাদাম কুরির জীবনের সমস্ত খুটিনাটি ঘটনা নিয়ে এবারের বইমেলার অন্যতম বই “রেডিয়াম ভালোবাসা”। যেটিকে কখনো মনে হবে জীবনীগ্রন্থ কখনো উপন্যাস। পাবেন মীরা প্রকাশনে। লিখেছেন ড. প্রদীপ দেব।
..............................
প্রদীপ দেব চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থ বিজ্ঞানে কৃতিত্বপূর্ণ ভাবে স্নাতকোত্তর শেষে নিউক্লিয়ার ফিজিক্সে পিএইচডি করেছেন দ্যা ইউনিভার্সিটি অব মেলবোর্নে। শিক্ষকতা করেছেন মেলবোর্ন ইউনিভার্সিটি, ট্রিনিটি কলেজ, অকল্যান্ড ইউনিভার্সিটি, ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটি, তাসমানিয়া ইউনিভার্সিটিতে। বর্তমানে রেমিট ইউনিভার্সিটি, অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষকতা করছেন।