বাংলা দেশাত্মবোধক তথা মুক্তির গানের প্রধান উৎস ছিল বাঙালির পরাধীনতাজনিত বিপর্যস্তবোধ। উনিশ শতকের প্রথমার্ধে দেশাত্ববোধের বদলে ছিল স্বদেশ সম্বন্ধে উদাসীনতা, বরং ইংরেজপ্রীতি। দ্বিতীয়ার্ধের দেশাত্মবোধক গানে ছিল কেবল হতাশা-বঞ্চনা আর আক্ষেপবোধ, বড়জোর মুক্তির অব্যক্ত কামনা। বিশ শতকের প্রথম দশকে বঙ্গভঙ্গকে কেন্দ্রকরে সৃষ্ঠি হল আবেগময় দেশাত্মবোধ। যথার্থ মুক্তির গান এসেছিল আরো পরে বিশ শতকের বিশের দশকে, নজরুলের অবিসংবাদিত নেতৃত্বের পরাধীনতার শিকল ভাঙ্গার গান থেকে সর্বশ্রেণির মুক্তির গান, সাম্প্রদায়িক হানাহানি আর সামাজিক অসাম্য থেকে মুক্তির গান। এই সোচ্চার কন্ঠ আরো সোচ্চার হলো চল্লিশের গননাট্য-আন্দোলনে,বাহান্নর ভাষা আন্দোলনে, একাত্তরের স্বাধীনতা সংগ্রামে (মুক্তির গান চলছে চলবেই)