পূর্ণেন্দু পত্রীর "হাসতে হাসতে খুন" এক আশ্চর্য উপন্যাস, যেখানে লেখক হাসির মোড়কে মানুষের অন্ধকার মনস্তত্ত্বকে উন্মোচন করেছেন। বইয়ের চরিত্রগুলো প্রথমে পাঠককে হাসায়—তাদের কথাবার্তা, কাণ্ডকারখানা, এমনকি তাদের অদ্ভুত আচরণও রসাত্মক মনে হয়। কিন্তু ধীরে ধীরে এই হাসির ভেতর থেকেই উঁকি দেয় ভয়ঙ্কর বাস্তবতা—মানুষের লোভ, বিশ্বাসঘাতকতা, অপরাধবোধ আর নির্মমতা। এখানেই বইটির নামের তাৎপর্য, কারণ পাঠক বুঝতে পারে হাসির আড়ালেও মৃত্যু, আতঙ্ক আর রক্তাক্ত সত্যি লুকিয়ে আছে। পূর্ণেন্দু পত্রীর সিনেম্যাটিক বর্ণনা, চরিত্র গঠনের সূক্ষ্মতা এবং ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের ব্যবহার উপন্যাসটিকে করে তুলেছে এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা। "হাসতে হাসতে খুন" কেবল একটি অপরাধকাহিনি বা ব্যঙ্গাত্মক লেখা নয়; এটি আসলে সমাজের মুখোশ উন্মোচন করা এক কঠিন আয়না, যা আমাদের দেখায়—মানুষ হাসতে হাসতে কতটা ভেতর থেকে ফাঁপা, আর সেই ফাঁপা হাসির মাঝেই লুকিয়ে থাকতে পারে নির্মম খুনের অন্ধকার।