নারায়ণ সান্যাল সেই অল্প কজন বাঙালি সাহিত্যিকদের অন্যতম যাঁরা মানুষের পাশাপাশি না-মানুষ অর্থাৎ প্রাণী ও উদ্ভিদজগত নিয়ে ভালো ধারণা রাখেন। ইতোপূর্বে না-মানুষদের নিয়ে লেখা তাঁর দু খন্ডের বিশ্বকোষ পড়ার সুযোগ হয়েছে। তথ্য আর হিউমার মিশিয়ে লিখেন, সাথে বিভিন্ন উপমা থাকে - পড়ে শিখাও যায় হাসাও যায়। 'না-মানুষের কাহিনী' আমার পড়া তাঁর তৃতীয় বই।
কয়েকটি স্পেশাল না-মানুষের কাহিনী নিয়ে বইটি। সবচে ভালো লেগেছে ইতালির কামপিগ্লিয়া-পিয়োম্বিনো শহরের ট্রেন চড়তে দক্ষ এক কুকুরের কথা - নাম তার ল্যাম্পো। একটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে লেখা কাহিনীটি। এছাড়া পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘ পথের পরিযায়ী পাখি আর্টিক টার্নদের নিয়ে লেখা 'দিগন্তপ্রিয়' ও দর্দুর নামের একটি পয়জন ডার্ট ফ্রগের জীবন নিয়ে লেখা 'একটি বিজ্ঞানভিত্তিক রূপকথা' ও ভালো লেগেছে।
'ক্লিপটোম্যানিয়াক' প্লেটো নামের এক কুকুরকে নিয়ে লেখা যার কাজ এর ওর জিনিস চুরি করে নিয়ে আসা। এটা মূলত ইচ্ছাকৃত নয়, একটা রোগ - ক্লিপটোম্যানিয়া সেই রোগটির নাম।
'ডলফিন' পৃথিবীর অন্যতম বুদ্ধিমান স্তন্যপায়ী প্রজাতি ডলফিনদের আচরণ, মানুষ-প্রীতি, ভাষা ইত্যাদি নিয়ে লেখা। সন্তানকে বাঁচাতে মরিয়া এক মা হাতিকে নিয়ে লেখা 'মা-শুয়ে'। যুগল রাজহাঁস আগাথা-ফিলিপ এর গল্প 'শেষ কথা'।
প্রকৃতি থেকে বিলুপ্তির পথে থাকে পনেরোটি প্রজাতিকে নিয়ে লেখা 'নিরপরাধ ফাঁসির আসামী'। সুখের বিষয় হলো বইটি যখন লেখা হয় (১৯৯০) তখন থেকে বত্রিশ বছর পেরিয়ে গেছে এবং এই প্রজাতিগুলোর অনেকই এখন প্রকৃতিতে বহাল তবিয়তে যথেষ্ট সংখ্যায় বেঁচে আছে।
পিয়েরে দাভিদ হরিণের ইতিহাস ও বংশরক্ষা নিয়ে দারুণ এক কাহিনী আছে এ অংশে।
বাংলা সাহিত্যে জীবজগত নিয়ে চর্চা হয়না বললেই চলে। তথ্যসমৃদ্ধ কিছু বই আছে, তবে সেগুলো শুধু তথ্যই, তাতে সাহিত্যের রঙ চড়ানো হয়না, ফলে বইগুলো হয়ে যা স্কুলের পাঠ্যপুস্তকের মত। সেদিক দিয়ে নারায়ণ স্যানাল ও তাঁর বইগুলো ব্যতিক্রম।
রেটিং ৪.৫/৫। তাঁর আরো কিছু বই যেমন 'না-মানুষের পাঁচালী', 'তিমি ও তিমিঙ্গিল' পড়ার ইচ্ছা রইলো।