#রকমারি_রিভিউ_প্রতিযোগ_জুলাই
মাত্র তিনখানা চরিত্র নিয়ে যে চমৎকার এক উপন্যাস লেখা যায়, তার প্রমাণ এ বইটি। এ বইয়ের গল্প সরল কিন্তু সরলতা থেকে ধীরে ধীরে জটিলতায় প্রবেশ করে। স্বল্প পরিসরে বেঁচে থাকা, জীবন যাপন করা মানুষের মাঝেও যে এমন মানসিক দ্বন্দ্ব তৈরি হতে পারে, তা আফসার আমেদের মতো গভীর দৃষ্টির লেখকের পক্ষেই তুলে ধরা সম্ভব।
চাষি মানুষ শোভান। কিসমতের সাথে তার বিয়ে হয়েছিল বেশ অনেকদিন। ভাব ভালোবাসা তাদের মাঝে বেশ। সমঝোতাও ভালো। তারা যতো না স্বামী স্ত্রী, তারচে বেশি বন্ধু। কিন্তু কিসমত কোন সন্তান দিতে পারছে না শোভানকে। তাই কিসমত নিজে থেকেই শোভানকে বলে দ্বিতীয় বিয়ের কথা। শোভান উড়িয়ে দেয় বা চুপ থাকে। কিসমত বোঝে, শোভান বিয়ে করবে না। তাই সে বারবার বলে। কিন্তু হঠাৎ কোনকিছু না বলে কাজের নাম করে বেরিয়ে একদিন পর শোভান বিয়ে করে নতুন বউকে নিয়ে আসে। হামিদা তার নতুন বিবি, দ্বিতীয় বিবি।
মুসলিম সমাজে বিশেষত গ্রাম-মফস্বলে একাধিক বিয়ে এমন কোন অসাধারণ বিষয় না। ধর্ম এবং সমাজ তাকে মেনেই নিয়েছে। কিন্তু এমন না বলে কয়ে বিয়ে আসার কথা না শোভানের। অন্তত কিসমত মানতে পারে না। তাই শোভানের দ্বিতীয় বিবি নিয়ে শুরু হয় জটিলতা। দেখা যায় নতুন বউকে ফেলে রেখে শোভান কিসমতের ম্যান ভাঙানোর চেষ্টায় ব্যস্ত।
ত্রিভুজ প্রেম নিয়ে দুনিয়াতে অনেক গল্প লেখা হয়েছে, অনেক সিনেমা হয়েছে। সেসবের বেশীরভাগ প্রেম, পরকীয়া সম্পর্কিত। এভাবে একই স্বামীর দুই বিবি নিয়ে গল্প খুব কমই পাওয়া যায়। তাও আবার একজন তার বহুদিনের সঙ্গী, অন্যজন সদ্য বিবাহিতা। সেই তিনজনের তিন রকম টানাপড়েন নিয়ে আফসার আমেদ সৃষ্টি করেছেন এক জটিল উপাখ্যান।
বিধবা হামিদা ভেবেছিল নতুন সংসারে কোনভাবে সতীনকে মানিয়ে নেবে। প্রয়োজনে গালিগালাজ, মারধোর সহ্য করবে। কিন্তু কিসমতের নৈশব্দের বিপরীতে কোন করনীয় সে খুঁজে পায় না। ওদিকে কিসমত বোঝে শোভান বিয়েটা করেছে তারই কথায়, কিন্তু মেনে নিতে পারে না। শোভানের ইচ্ছে করে হামিদার বিছানায় যেতে, কিন্তু কিসমতকে উপেক্ষা করার সাহস বা মন তার নেই।
যে গল্প কিসমত আর শোভানের প্রেম দিয়ে শুরু হয়েছিল তা ক্রমে একটা পারিবারিক সমস্যায় রূপ নেয়। আর লেখক আমাদের নিয়ে যান এই তিনটি চরিত্রের মানসিক টানাপড়েনের ভেতরে। আমরা দেখতে পাই কিসমতের খেয়ালি মনোভাব। শোভানের সততা আমাদের বিস্মিত করে। অন্যদিকে কপালপোড়া হামিদা শোভানকে ভুল বুঝতে শুরু করে। যৌনতা থেকে লেখক তখন আমাদের টেনে নিয়ে যান নারী স্বাধীনতার দিকে। কিন্তু যে জটিলতা শুরু হয়েছে তার শেষ কোথায়?
বাস্তবে হলে এর শেষ কোথায় হতো তা বলা যায় না। কিন্তু যেহেতু এ গল্পের নিয়তি আফসার আমেদের হাতে, তাই কোথাও গিয়ে শেষ হয়।