7 verified Rokomari customers added this product in their favourite lists
TK. 700TK. 665 You Save TK. 35 (5%)
ডায়েরির পেছনে পড়ে থাকা এক অসমাপ্ত বৃত্ত, রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক পাগল আর বিটলসের টুকরো-টাকরা কিছু গানের মাঝে বিছিয়ে থাকে বোবো আর সমন্বয়ের গল্প। বোবো বড় ইন্ডাস্ট্রিয়ালি
বৈষ্ণবী ওরফে বোবোর শৈশবটা জর্জরিত ছিল একটি কমন প্রশ্নে, সেটা হল – ‘বোবো, বোকার মত তাকিয়ে না থেকে উত্তর দাও’। বাবা, মা, টিচারের মুখে হাজারবার এই প্রশ্নের মোকাবিলা করতে করতে ছোট্ট বোবো ভাবত এই বিশাল পৃথিবীতে এমন কেউ কি নেই যাকে সে এই প্রশ্নটা করতে পারে!!! তিমি মাছের মত প্রকান্ড বাড়ি আর রোবটের মত ১০/১২ জন কাজের লোকের ভিড়ে বাবা, মা, দিদিকেও মাঝে মাঝে রোবট বলে ভ্রম হত বোবোর। তবে একজন মানুষ ছিলেন সবার চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা, বৈষ্ণবীর বাবার খুড়তুতো দাদা রাঙ্গা, বোবোর বেস্ট ফ্রেন্ড নাঙ্গু। বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর আজও যিনি বোবোকে প্রাণ দিয়ে আগলে রেখেছেন, এই ঊনত্রিশ বছর বয়স পর্যন্ত যার উপর বোবো এখনো অনেকটাই নির্ভরশীল।
বাবার রেখে যাওয়া বিশাল ব্যবসা সামলাতে সামলাতেই কেটে গেছে বোবোর জীবনের ঊনত্রিশটি বসন্ত। বয়স তো আর নিতান্তই কম হলনা, তাই বিয়ের জন্যও চাপ আসছে সবার কাছ থেকে, কিন্তু কেন যেন মন থেকে সায় পাচ্ছেনা বোবো। তাছাড়া ইক্কিকেও আজকাল বড্ড অসহ্য মনে হয়, কি কুক্ষণেই যে পরিচয় হয়েছিল ছেলেটার সাথে। বোবোকে বিয়ে করতে ইক্কির আসল ইন্টারেস্টটা কোথায় সেটা বোবো খুব ভালমতোই জানে, কিন্তু চার বছর তো আর কম সময় না, তাই চাইলেও সরে আসতে পারেনা সে ইক্কির জীবন থেকে। ইক্কির দুর্ব্যবহার ছাপিয়ে প্রায়ই বোবোর চোখে ভেসে উঠে একজোড়া অপমানিত চোখ, লাল-হলুদ ফুল ছড়ানো ফুটপাত দিয়ে মাথা নিচু করে এক যুবকের প্রস্থান।
বোবোর প্রাচুর্যপূর্ণ জীবনের উল্টোপিঠে আছে আরেকটি খেটে খাওয়া জীবন, যার আধার সমন্বয় চক্রবর্তী। বাবা আর বোনের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে অবিরাম ছুটে চলা সমন্বয়ের কাঁধের বোঝাটা আরেকটু ভারী করে দেয় তার নেশাগ্রস্ত অবস্থায় দেয়া একটি প্রতিশ্রুতি। বাবার ঋণ, বোনের পড়া, গজার মায়ের চিকিৎসা সব মিলিয়ে একদম জেরবার হয়ে পড়ে বছর বত্রিশের এই যুবক। কিন্তু এরই মধ্যে তার ক্লান্ত দুই চোখ নিজের মত করে সাজিয়ে নেয় একটি ওল্ড এজ হোম আর আয়ুর্বেদিক প্ল্যান্টেশনের স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন কি কখনো সত্যি হয়ে ধরা দেবে সমন্বয়ের জীবনে, নাকি দারিদ্র্যের সাথে সংগ্রাম করতে করতেই ফুরিয়ে যাবে তার অস্তিত্ব??
পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ স্মরণজিৎ চক্রবর্তী আমার প্রিয় লেখকদের একজন, যদিও লেখকের সম্বন্ধে তেমন কিছুই আমি জানিনা। তাঁর লেখা ভাল লাগার কারন হল তাঁর লেখার স্টাইল। তাছাড়া উনার প্রায় সব বইয়েই উনি অনেকগুলি নবীন প্রানের সমাহার ঘটান, যাদের কলকাকলীতে মুখর হয়ে থাকে উপন্যাসগুলি। তবে বৃত্তে এই জিনিসটার অনুপস্থিতি কিছুটা টের পেয়েছি, সেই জন্যই কি না কে জানে পাল্টা হাওয়া আর পাতাঝরার মরশুমের মত অতটা ভাল লাগেনি বৃত্ত। তার মানে কিন্তু এই না যে খারাপ লেগেছে, সো তাড়াতাড়ি পড়ে ফেলবেন আপনারা। ;)