সুমন্ত আসলাম ভাইয়ার “জ্যোৎস্না নিমন্ত্রণ” বইটা পড়েই ওনার বইয়ের প্রতি একটা ভালো লাগা কাজ করে। আমার কারো একটা বই ভালো লাগলে তাঁর আরো বেশ কিছু বই পড়ে নিই। সেই জের ধরেই ভাইয়ার “তুমি ছুঁয়ে যাও বৃষ্টি তবু” বইটা পড়া শুরু করি।
“জোৎস্না নিমন্ত্রণ” বইটার মত এটাও একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের গল্প। এটা পড়ার পর হুমায়ূন আহমেদে স্যারের “শঙ্খনীল কারাগার” বইটার কথা মাথায় আসলো। যদিও বই দুইটি ভিন্ন। “শঙ্খনীল কারাগার” এর খোকা আর “তুমি ছুঁয়ে যাও বৃষ্টি তবু” এর সোহান এর অনেকটা মিল খুঁজে পাই। কেন জানি মনে হয় মধ্যবিত্ত পরিবারের গল্পগুলো প্রায় একই হয়। J
তুমি ছুঁয়ে যাও বৃষ্টি তবুও বইটার শুরু হয়েছিল একটা স্বপ্নের মধ্য দিয়ে, আর শেষ হয় সেই স্বপ্নটা বাস্তব হয়ে। কি স্বপ্ন ছিল সেটা জানতে হলে অবশ্যই পড়তে হবে বইটি।
কেন জানি মনে হচ্ছে উপড়ের লাইনটা বলে বইটার আকর্ষণ অনেকটা কমিয়ে ফেলেছি। তারপরেও লাইনটা দিলাম কারন বইটার শেষে গিয়ে এই লাইনটাই মাথায় ঘুরছিল।
একটা মধ্যবিত্ত পরিবারের অবস্থা খারাপ হলেও সেখানের ভালোবাসাগুলো প্রবল হয়। যা এই বইটিতে ফুঁটে উঠেছে। বইটির মধ্যে অনেক মজার মজার অংশ আছে। যা পড়ে গম্ভীর মানুষও হেসে উঠবে। ভাইয়া যে ভালো লেখে তা এই ছোট ছোট বিষয়গুলো দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন।
বইয়ের অন্যান্য প্রধান যে যে চরিত্রগুলোর কথা না বললেই নয় সেগুলো হল বদরুল, উর্মি, জামান সাহেব, সুফিয়া খানম, শাহেদ, শুচি, মিলি, স্বর্ণা, রিংকু, শাওলি, টেংকু মামা...
আমার সব থেকে অদ্ভুত চরিত্র মনে হয়েছে বদরুলকে, সে অনেক ভালো বাঁশি বাজায়। আর কি কি করে সেটা জানার জন্য বইতো আছেই। আর রিংকু-শাউলি বাচ্চাগুলো কি অদ্ভুদভাবে বাস্তবতাগুলোকে নিজেদের মত করে সাজিয়ে নিয়েছে।
আমার এই বাজে লেখা পড়ে সময় নষ্ট করার চাইতে বইটি পড়ে ফেলায় ভালো। তাই আর দেরী না করে বইটি পড়ে ফেলুন আর জানান আপনার কেমন লেগেছে।