ইংরেজীতে ইয়ারবুক বলতে যা বোঝায় এই বইটি অনেকটা সে-জাতীয় হলেও, পাঠককে এটি আরো বেশি কিছু দেবে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগেও বাংলাদেশ ছিল। সেই আদিকাল থেকে বাংলাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ন ঘটনাপঞ্জি এতে সংকলিত হয়েছে। বইটি বাংলাদেশের ইতিহাসচর্চার পক্ষে একটি অত্যাবশ্যক সহায়ক গ্রন্থ।
এই বইয়ের একটি বৃহৎ অংশ জুড়ে আছে ১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ সৃষ্টির পটভূমিতে ঘটে যাওয়া ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা, উনসত্তরের গন অভ্যুত্থান সহ অন্যান্য অনেক গুরুত্বপূর্ন ঘটনার তারিখ সহ সংক্ষিপ্ত বর্ননা।
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান ছাত্র ছিলেন ইতিহাসের। ইতিহাস-চিন্তার ক্ষেত্রেও তিনি বাংলা, বাঙালি ও বাংলাদেশকেই গভীর অনুসন্ধানের বিষয় হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। প্রথমে মাতৃভাষা, পরে রবীন্দ্র-অনুসন্ধান এবং শেষে বাংলাদেশের ইতিহাসচর্চা এ নিয়েই বিশিষ্ট বাঙালি হাবিবুর রহমানের বাঙালিত্বের জগৎ। কোনোটিই কোনোটি থেকে বিচ্ছিন্ন নয় এবং এই তিনেই তিনি সংস্কৃতিমনস্ক বাঙালিত্বের পূর্ণতা উপলব্ধি করেছেন। এ বিষয়ের লেখালেখিতে এই তিনের সমন্বয় ও সংগতির বিস্তার আমরা লক্ষ করি। এর পটভূমি, প্রাসঙ্গিকতা এবং সমগ্রতাকে উপলব্ধি করার জন্যই তিনি বাংলা ও বাঙালির ইতিহাস রচনায়ও মনোনিবেশ করেছিলেন। মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানকে যে রেনেসাঁ-মানব বলা হয়, তা এই কারণেই যে তাঁর মানবিক অনুসন্ধান ছিল বিচিত্র, বহুমুখী ও বহুকেন্দ্রিক। মানুষ, মানবিক বিবেচনা ও ইতিহাসবোধের গভীরতা তাঁকে বহু বিষয়ে মৌলিক সত্য অনুধাবন করার এক অনন্য শক্তি দিয়েছিল। সে কারণেই তিনি একই সঙ্গে নিষ্ঠাবান বাঙালি, মুক্তচিন্তার সাধক, প্রগাঢ় ধার্মিক ও সর্বোপরি এক বিচার-বিশ্লেষণপ্রবণ অসামান্য মানুষ।