রিচার্ডের জীবন শুরু হয় দক্ষিণের মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের চরম বর্ণবাদী লাঞ্ছনা-গঞ্জনা আর মারপিটের মধ্যে। শ্বেতাঙ্গ সমাজ যেমন তেমনি পরিবারের নিকটতম লোকজনও ছিল এই বালকের প্রতি বৈরীভাবাপন্ন।বস্তুত রিচার্ড নিজের নানা-নানি বাবা-মা ভাই খালা খালু মামা মামী নিকট আত্মীয় প্রায় সবার কাছে বিভিন্ন মাত্রায় বিভিন্ন প্রকারের দুর্ব্যবহার পায়।বাবার দায়িত্বহীন অনুপস্থিতি মায়ের অসুস্থতা অ্যাডি খালার দুর্বিনীত শাসন ক্লার্ক মামা ও মামীর রুঢ় আচরণ তার মনে দারুন নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
শারীরিক ও মানসিক সহিংসতার এই শত্রু সমাজে বাস করতে অস্বীকার করলে তাকে এক ঘরে করে রাখা হয়।শ্বেত বিশ্বে তাকে বাঁচানো এবং শ্বেত দৃষ্টিতে তাকে গ্রহণযোগ্য করে তোলা ছিল তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য রাইটের নিজ জীবনে ঘটে যাওয়া একের পর এক দুঃসহ ঘটনা সম্বলিত এই আত্মজীবনীতে ফুটে উঠেছে সমাজের নানান অসঙ্গতি, কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতি শ্বেতাঙ্গদের তাচ্ছিল্য ও জঘন্য আচরন, ধর্মীয় গোঁড়ামি।।।
ব্যক্তিগতভাবে অতিরিক্ত অভাব জর্জরিত উপন্যাস আমার কাছে খুব একটা ভালো লাগেনা। বিশ্ববিখ্যাত এই উপন্যাসটি পড়ার অন্যতম একটি কারণ ছিল সম্পুর্ন রূপে রিচার্ডের সিচুয়েশনে নিজেকে চিন্তা করতে পারি কিনা তা দেখা।ওয়ার্ল্ড ওয়াইড খ্যাত এই উপন্যাস থেকে একজন প্রাপ্তবয়স্ক পাঠক নিজের অজান্তেই প্রচুর শিক্ষা নিতে পারবে।
মূলত নিগ্রো রিচার্ড রাইট জীবনের শৈশব থেকে প্রাপ্ত বয়স্ক অবধি ধাপে ধাপে কিভাবে একেরপর এক বাঁধা অতিক্রম করে তা যেকোনো মানুষকে বিস্মিত ও অনুপ্রাণিত করবে।সমস্ত কঠিন ও সহ্যাতিত পরিস্থিতিকে সামলে নিয়ে ক্ষুদ্র অবস্থা থেকে উঠে এসে রিচার্ড তার পায়ের নীচের মাটি শক্ত করে টিকে থাকার লড়াইয়ে জিতে যাওয়ার একটি উজ্জ্বল আশাবাদী আলোর রেখায় লিখিত রাইট এর শৈশব ও যৌবনের বৃত্তান্তমূলক আত্মজীবনী কালো ছেলে।