"দি নেসেসিটি অব আর্ট (অখণ্ড)" বইটির সম্পর্কে কিছু কথা: গ্রন্থের আলােচ্য বিষয়বৈচিত্র্য এত ব্যাপক এবং বিষয়ের গভীরতা এত বেশী যে, সাধারণ পাঠকের পক্ষে তা বুঝে উঠা কষ্টসাধ্য মনে হওয়া স্বাভাবিক। তবে বিষয়বৈচিত্র্যের সঙ্গে উপস্থাপনের বৈজ্ঞানিকতা ও পদ্ধতিগত রীতিনিষ্ঠতার সংযােগ সাধনের ফলে সাহিত্যের সাধারণ পাঠক ও শিল্পানুরাগীরাও এ গ্রন্থপাঠে আনন্দলাভে সক্ষম হবেন। ভাষাগত সৌষ্ঠব পাঠকের সৌন্দর্যানুভূতি ও নান্দনিক রসনা নিবৃত্তিতে তৃপ্তিদায়ক হবে- একথা প্রত্যয়ের সঙ্গে বলতে পারি। অন্যদিকে, আত্মগত সীমাবদ্ধতার ব্যাপারটি হলাে, যে সকল পাঠক-সমালােচকের মনন ও চিন্তন প্রণালী অধ্যাত্মবাদ দ্বারা আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে তাদের পক্ষে দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদী ধারার এ সমালােচনা গ্রন্থ হজম করা অপেক্ষাকৃত কঠিন। এতদসত্ত্বেও খােলামন নিয়ে লেখকের পদ্ধতিটি অনুসরণ করতে পারলে দুর্বোধ্য মনে হওয়ার কারণ নেই। লেখক প্রশ্নের মাধ্যমে বিষয়বস্তুর সূত্রপাত করেছেন, অতঃপর বৈজ্ঞানিকের বস্তুনিষ্ঠতায় প্রশ্নের উত্তর অন্বেষণ করেছেন। আর তার অন্বেষণের ক্ষেত্র মায়া বা স্বপ্ন জগৎ নয়, একেবারেই ইন্দ্রিয়গ্রাজ্য বস্তুজগত। তাই সংস্কারমুক্ত, বিজ্ঞানমনস্ক নবীন পাঠকদের জন্য গ্রন্থটি দুর্বোধ্য তাে নয়ই, বরং বােধগম্য ও আকর্ষণীয় মনে হবে বলে প্রত্যাশা করি। সে প্রত্যাশা থেকে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্প-সাহিত্যের ও শিল্পানুরাগী ছাত্রছাত্রীদের কথা বিশেষ বিবেচনায় রেখে গ্রন্থের শেষে প্রয়ােজনীয় পরিভাষা কোষ ও টীকা সম্বলিত একটি পরিশিষ্ট জুড়ে দিয়েছি, যা পাঠসহায়ক হিসেবে কাজ করবে।
শফিকুল ইসলাম জন্ম ১৯৫৪ তে। ১৯৭১-এ দিনাজপুর সরকারী কলেজে উচ্চমাধ্যমিক প্রথম বর্ষের ছাত্র থাকাকালীন মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। যুদ্ধ পরবর্তীকালে সেই কলেজ থেকেই উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেন। অনার্স ও মাস্টার্স করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজ কল্যাণে। পরবর্তীতে নেদারল্যান্ডস-এর ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল স্টাডিজ থেকে ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ-এ এমএ করেন। পেশাগত জীবনে উন্নয়ন কর্মী। চার দশকের ও বেশী সময় ধরে উন্নয়ন কর্মী হিসেবে কাজ করেছেন দেশী বিদেশী বিভিন্ন সংস্থায়। বর্তমানে একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক হিসেবে কর্মরত। ব্যাক্তি জীবনে অত্যন্ত বন্ধুবৎসল, সজ্জন ও কাজপাগল এই মানুষটি সব সময় চলমান থাকেন। কবিতা লিখেন নিজের খেয়ালে। লেখার হাত অতুলনীয়। তবে ছাপাখানার ধারেকাছেও যাননি কখনো। এই বইয়ের পান্ডুলিপি বলা যায় জোর করে আনা হয়েছে।