কি অদভূত ! কি অদ্ভূত! এটা কি আসলেই একজন মানুষের জীবন হতে পারে? কিন্তু কিভাবে ? যেন মনে হলো একটা অসম্ভব ভালোলাগা চলচ্চিত্রকে বাস্তবের নিরিখে দেখলাম। যতটুকু না দেখলাম তার চাইতেও অনেক বেশি অনুভব করতে পারলাম। অমৃতা , ইউক্লিড , এমনকি রবীন্দ্রনাথকে যেন নতুন করে পেলাম, অনেক কাছ থেকে পেলাম।
ষোলো বছরের নিছক ছেলেমানুষী প্রেমও জীবনকে এতটা অর্থপূর্ণ করে রাখতে পারে যে তেতাল্লিশ বছরের ব্যবধানেও তা আরও সুগভীর হয়। শুধু তাই না, চৌদ্দ বছরের দীর্ঘ বয়স ব্যবধানেও যে নিঃঝঞ্ঝাট দাম্পত্য গড়ে উঠতে পারে কেবলমাত্র নিঃস্বার্থ , নিরেট ভালোবাসার ফলে সেটা এই বই না পড়লে জীবনে কোনোদিন বিশ্বাস করতাম না। সত্যিই এটা যেন একটা অসামান্য বই। লেখিকার জীবনের চরম ও পরম সত্যগুলি ফুটে উঠেছে তার লেখায়।
এছাড়াও রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে লেখিকার পারিবারিক সম্পর্কের আলোকে তার লেখনীতে ব্যক্তি রবীন্দ্রনাথকে সহজেই খুজেঁ পাওয়া যায়। জীবনে প্রথম আমার কোনো আত্মজীবনী পড়ে মনে হয়েছে , আক্ষরিক অর্থেই এটি একটি স্বার্থক জীবনী। তবে বইটা পড়ে একটু দুঃখবোধও হলো । কেননা বিংশ শতকের যে বিশুদ্ধ , কামহীন ভালোবাসার চিত্র তিনি আকঁতে চেয়েছেন সেটা হয়তো একবিংশ শতাব্দীতে এসে আর এক্সিস্ট করে না। সেটা বই পড়লেই বোঝা যাবে অতি সহজেই। এজন্যই হয়তো বলে, " the world was so innocent that time ".
মোটকথা বইটা দর্শন, শিল্প , বিশ শতকের সামাজিক বাস্তবতা, প্রেম-অপ্রেম, বিচ্ছেদ , মিলন ইত্যাদি সকল বিষয়ের সমাহার। বইয়ের কিছু উল্লেখযোগ্য লাইন -
“দেখি তুলে তার বুকের আচ্ছাদন, সেখানে এখনও বাস করে কিনা মন, "
"পাখি যে গান গায় তারও কোনো অর্থ আছে বিশ্ব ব্যাপারে, সে কিন্তু সেটা জানে না। তাতে ক্ষতি নেই, তেমনি মনের আনন্দে তুমি পড়, অন্যের ব্যাখ্যা তোমার কোনো কাজে লাগবে না।”
"তাকে চিনি না বলেই অপেক্ষা এত মধুর।”
“যে সব ছেলেরা বেশি মিষ্টি, যাদের সবাই বলে কি ভালো ছেলে, আসলে তাদের কোনো পৌরূষ নেই ।"
"ভালোবাসাটা তার নিজের জন্যই, যেমন আমাকে ভালোবাসেন, খুবই ভালোবাসেন, সেটা আমার জন্য যত না তত নিজের জন্য।"
"he jests at scars who never felt a wound!"
বলা বাহুল্য, পরবর্ই্তীতে বইয়ের আলোকে " হাম দিল দেচুকে সানাম" নামের সিনেমাও নিমার্ণ করা হয়।