নদীর তীরে দাঁড়িয়ে যেমন মনে হয়, এ আর কতটুকু নদী! মুহূর্তেই একে সাঁতরে ওপারে যাওয়া যাবে। কিন্তু নদীতে নামলে বোঝা যায়, নদীটির বিশালতা। উপন্যাসটি লিখতে গিয়ে আমার অবস্থাও তেমনি হয়েছিল।
বর্তমানে প্রকাশনীতে এই বইটির মুদ্রিত কপি নেই। বইটি প্রকাশনীতে এভেইলেবল হলে এসএমএস/ইমেইলের মাধ্যমে নোটিফিকেশন পেতে রিকুয়েস্ট ফর রিপ্রিন্ট এ ক্লিক করুন।
বর্তমানে প্রকাশনীতে এই বইটির মুদ্রিত কপি নেই। বইটি প্রকাশনীতে এভেইলেবল হলে এসএমএস/ইমেইলের মাধ্যমে নোটিফিকেশন পেতে রিকুয়েস্ট ফর রিপ্রিন্ট এ ক্লিক করুন।
নবচেতনার বিভাসে শফিক হিরোর উপন্যাস ‘নির্জন নিরালা’
যেকোনো গ্রন্থ পাঠে যদি মোহিত ভাব না থাকে কিংবা পাঠককে গ্রন্থ না টানে সে তো নিশ্চিত ‘ফ্লপ’ করবেই। সাধারণত আমরা গ্রন্থ পাঠে তৃপ্ততা খুঁজে বেড়াই। সম্ভবত এসব বিষয়ে ‘হেরা ক্লিটস’ বলেছেন, গতকালের মানুষ আজকের মানুষের নয়, আজকের মানুষ আগামীকালের মানুষ হবে না। এ অব্যর্থ তিক্ততা বা আমূল পরিবর্তনের সুহাঙ্গিকই ফুটে উঠেছে আলোচ্য বাক্য।
সম্প্রতি নির্জন নিরালা পাঠে যৎসামান্য নাড়া পেয়েছিলাম। সম্ভবত ঔপন্যাসিক কবি গোছের হওয়াতে এ শিল্পে তাল পাকান। আমরা দেখেছি কবিরা কবিতা লেখেন বলে কথাশিল্পে সফল হতে পারেন না। যেমন এক মাঝিতে দুই নৌকা কন্ট্রোল হয় না। আবার যারা সফল হন তারা শতকরা ওয়ান আর তারাই তারকা। শফিক হিরো সে গোত্রেরই বলে অনুমেয় হয়।
‘যেন মৃত্যুকে জানতে এসেছি এই পৃথিবীতে তার জন্যই আমাদের এত ব্যস্ততা।’ মৃত্যু সিরিজ ১। যত সহজেই পঙ্ক্তি বাঁধা গেল উপন্যাসশিল্পে এসে তত সহজে বাক্য নির্মাণ করা গেল না। যত দূর বোঝা যায় শফিক হিরো পড়ালেখার সঙ্গে জড়িত। লেখাপড়ার সংসারী সামান্য। নির্জন নিরালা উপন্যাসে নির্জন ও নিরালাকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তাতে বোঝা যায় দুর্দান্ত সাহসিকতাকে বাঘেন আপন ঘরানায়। আপন কথায় অন্যকে খাটো করেছেন তিনি ‘নদীর’ তীরে দাঁড়িয়ে যেমন মনে হয়। এ আর কতটুকু নদী, মুহূর্তে একে সাঁতরে ওপারে যাওয়া যাবে-কিন্তু নদীতে নামলে বোঝা যায় এর বিশালতা। - এতে অন্যের সাহস ছিনিয়ে নেওয়ার মতো নয় কি? আজকের মানুষ যেমন আগামীকালের নয়, সুতরাং আগামী চিন্তকের চিন্তাও হবে নতুনই। চাতকের রূপ ধরে না কেউ তবে চাতকের সুরে আন্দোলিত হয়- যেমন গ্রামে বসে শহরকে পোড়া মাটির কামরা বা যন্ত্রণা মনে হয়। কিন্তু রাতের বিচিত্র রঙে লাইটের ঝলমলে দৃশ্য কিংবা যানবাহনের সাথে পাল্লা খাওয়া শ্রমিক মানুষের উদ্বাস্ততা-ব্যস্ততা-হিুম্মত এ তিনই পরিলক্ষিত হলে ভীতুর মনেও সাহস সঞ্চারিত হয়। নির্জন নিরালা শিল্পে করুণ সুর যেভাবে বেজেছে অদূর ভবিষ্যতে শুধরিয়ে শফিক হিরো বেরিয়ে আসবে আপন ঘরানা হতে। চিন্তার ছিঁড়ে উৎরাতে হবে আকাশ পানে নবচেতনায়। যেভাবে নির্জন ও নিরালা স্বপ্ন পল্লবিত হয়ে কচিমুখের আয়োজনে, সুখের কুটির বুনতে যখন শুরু করে তখনই নীল আকাশে মেঘের তান্ডব শুরু হয়।
চাহিদাভুক প্রাণের-যখন হাঁড়ি খালি থাকে, তখন ক্ষুদ্র এক মেঘ যেন শতমুখ হয়ে পেটের ভেতরে রাক্ষসের মিছিল বের করে। কবে কে ক্ষুদ্র যুদ্ধে জয়ী হতে পেরেছে? জলপাতা খেয়ে ক্ষুধা সংবরণ করা গেলে মানুষ হতো পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সুখী। তবু আজও বলি না ধনীর বিলাসিতা কুকুর পোষ্যতা দেখে একে অবনতিই বলা যায়।
‘রাস্তায় রাস্তায় শীতার্ত মানুষের মতো পুড়েছে টায়ার’-এ ধরনের উদ্ধৃতি রূপক অর্থে ব্যবহৃত। এ তো টায়ার পোড়ে না, পোড়ে কত জীবন-জীবিকার প্রশ্নে বাঁধা টায়ার সুরতে মানুষ।
‘ক্ষুধাতুর পাওনা ঠিকমতো বুঝে না পেলে ‘ও’ ক্ষুধার্তকে খেয়ে ফেলে। মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত প্রাণ, মিছে জগৎবাসে। নির্জন ও নিরালার সংক্ষিপ্ত দাম্পত্য এর প্রমাণ দেয়। শব্দের অলংকার বিন্যাসে কিছুটা গরমিল চোখে পড়ে। প্রারম্ভে ‘সমাবেশের জন্য সকল আয়োজন শেষ করে, আয়োজকরা যেমন ফুটন্ত ভাতের মতো উত্তেজনা নিয়ে অতিথির জন্য অপেক্ষা করে-’ এই অধীর অস্থির আগ্রহ বা অস্থিরতার বদলে ফুটন্ত ভাতের মতো হবে কেন। সে তো অগ্নিতপ্ত, জ্বলন্ত, দাউদাউ জ্বলা অর্থে। নির্জন নিরালা গ্রন্থে বানান বিচ্যুতি চোখে না পড়লেও সতর্কতার তীক্ষè দৃষ্টি রাখতে হবে। নির্জন নিরালা কি তার নায়িকার চরিত্রের মতো কুশ্রী বেশ ধরেছেন? নয়তো আধুনিক সময়ে এসেও কেন এমন প্রচ্ছদ?
- অ আ আবীর আকাশ
কবি ও লিটলম্যাগ সম্পাদক