অকারণ নিরীক্ষা কিংবা ভাষার জালে ফেলে গল্পকে জটিল করে তোলেন না মনি অধিকারী। তার গল্পে গল্প থাকে। সে গল্পে জীবন থাকে তথা জীবনঘনিষ্ঠ আখ্যান স্থান পায় নির্মিতিতে। নিটোল একটি গল্প শোনানোর প্রচেষ্টা লক্ষণীয়। শুরু থেকেই তা বেশ ভালোভাবেই জানান দিয়েছিলেন তিনি। এখনও এই ধারাবাহিকতা বহমান।
ভিন্ন আঙ্গিক, নতুন ধারা সৃষ্টির নামে গল্পকে তিনি যেমন কাটাছেঁড়া করেন না, আবার চমৎকার ভাষার বুননেও ফাঁদে ফেলেন না গল্পকে। তার গল্পে সবসময় একটা গল্প থাকে- যে গল্প ‘জীবন্ত’! গল্প বলার সময় গল্প ছাড়া অন্য কোনো কিছুই শক্তিশালী হয়ে ওঠার সুযোগ পায় না। যাপিতজীবনের কেদ, মানবিক সম্পর্কের টানাপোড়েন, নরনারীর প্রেম-অপ্রেম-মিলন ও বিরহগাথা, জীবনযন্ত্রণা, মানুষের অপ্রাপ্তি ও হতাশাকে প্রাঞ্জল ভাষায় মূর্ত করে তোলেন অনায়াসে।
বইটির বেশ বড় একটি অংশজুড়ে আছে ভালোবাসা-উপাখ্যান। কত রকমফের এ প্রাচীন সম্পর্কের; ভালোবাসা যে কত জটিল আর বিচিত্র হতে পারে- নতুন করে সেটাই যেন পরিস্ফুটিত হলো। ভালোবাসা নিয়ে লেখকের ততটা আবেগ নেই- যতটা আছে নির্মোহ বিশ্লেষণ এবং সমাজতাত্ত্বিক ভাবনা।
মনি অধিকারীর গল্পভুবন পরিব্রজন করে পাঠক কান্ত হবেন না- এ আশ্বাসটুকু নির্দ্বিধায় দেয়া যায়!