লুনা রুশদী অনূদিত অরুন্ধতী রায় এর দ্যা ব্রোকেন রিপাবলিক বইটি হাতে নিয়ে আমার প্রথম প্রশ্ন ছিল, অনুবাদের জন্য কেন এই বইটিকেই বেছে নিয়েছেন তিনি। প্রশ্নের উত্তরটি তিনি দিয়েছেন অত্যন্ত জোরালো যুক্তির মাধ্যমে ।প্রতিনিয়ত ডেমোক্রেসি নিয়ে হল্লা করে যাওয়া দেশগুলো প্রকৃত অর্থে ঠিক কতখানি মানবাধিকারের দৃষ্টিতে ডেমোক্রেসিকে দেখছেন, ভাবছেন, মূল্যায়ন করছেন - তা সত্যিকার অর্থেই ভাববার বিষয় ।
ডেমোক্রেসি একটা দেশের সকল মানুষকে নিরপেক্ষ আইনের আওতাভুক্ত করার কথা বলে, প্রতিবাদের ভাষায় লিখে পড়ে পক্ষপাতিত্ব মূলক মার্জিন টেনে দেয় না! নিদেনপক্ষে মৌলিক চাহিদার দাবী রক্ষা করবার জন্য দেয় না কোন মিথ্যা প্রতিশ্রুতি । ‘দ্যা ব্রোকেন রিপাবলিক’ তাই অনুবাদককে ‘গণতন্ত্র’ নিয়ে পুনঃভাববার সুযোগ করে দিয়েছে। এই ভাবনার ফলশ্রুতি তাঁর ‘অনুবাদকের কথায়’ স্পষ্ট। তিনি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করেছেন আমাদের গণতন্ত্র কি বাজারি গণতন্ত্র? কাজেই যারা বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্রের অবস্থান নিয়ে ভাবছেন নিঃসন্দেহে বইটি তাঁদের চিন্তার জন্য একটা গাইডলাইন । মূল বইটি আমার পড়া নেই ।কাজেই অনুবাদ কেমন হয়েছে তার তুলনামূলক আলোচনা করা যাচ্ছে না ।তবে মূল বইটি পড়া না থাকলেও অনুদিত একটা বই যখন একটানে পড়ে এগোনো যায় তখন বইটির অনুবাদের ক্ষেত্রে সার্থকতা নিয়ে কোন দ্বিধা থাকে না । অনুবাদককে ধন্যবাদ সার্থক অনুবাদের মাধ্যমে সাধারণ সচেতন নাগরিকদের যুগোপযোগী চিন্তার খোরাক যোগানোর জন্য ।