পর্ব থেকে পর্বান্তরের পনেরটি প্রবন্ধকে চারটি পর্বে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম পর্বকে প্রাবন্ধিক ‘নিবেদন’ অংশে ‘ছন্দের বিস্তার’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এই পর্বের প্রথম প্রবন্ধ ‘লোকছন্দ ও রবীন্দ্রনাথ’। এ প্রবন্ধের মূল আলোচ্য বিষয় রবীন্দ্রনাথের কবিতায় লোকছন্দের ব্যবহার হলেও এখানে লোকছন্দের উত্পত্তি ও ক্রমবিকাশও প্রাবন্ধিক তুলে ধরেছেন। যা প্রবন্ধকে দিয়েছে আলাদা মাত্রা। লোকছন্দ বা ছড়ার ছন্দ অর্থাত্ স্বরবৃত্ত হালকা, চটুল ও লঘু ভাবের ছন্দ হলেও সর্বগ্রাসী প্রতিভা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই লঘু ভাবের ছন্দের মাঝেই গভীরভাব ব্যক্ত করেছেন। উন্মোচন করেছেন স্বরবৃত্ত ছন্দের এক নতুন দিগন্তের এবং প্রমাণ করেছেন তার কথা, ‘এই খাঁটি বাংলায় সকল রকম ছন্দেই সকল কাব্যই লেখা সম্ভব, এই আমার বিশ্বাস। এই প্রাকৃত-বাংলাতে ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ লিখলেও যে বাঙালিকে লজ্জা দেওয়া হত সে কথা স্বীকার করব না।’ মুজিবুল হক কবীরের ভাষায়, ‘প্রাকৃত রীতির (অর্থাত্ লোকছন্দের) অন্তর্নিহিত শক্তি অনুভব করতে পেরেছিলেন বলেই তার পক্ষে এমন দুঃসাহসিক উক্তি করা সম্ভব হয়েছে।’