মেয়ের বিয়ের পরে বাবা-মায়ের উচিত, মেয়ে ও জামাতাকে নিজের মতো করে তাদের জীবন গোছানোর সুযোগ দেওয়া এবং মাঝেমাঝে সঠিক পরামর্শ দিয়ে পাশে থাকা।
তবে মেয়ের সংসারে বাবা-মায়ের অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ বা হস্তক্ষেপ না করাই উচিত। এতে হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি থাকে।
কিন্তু অনেক বাবা মা আছেন, মেয়ের বিয়ের পরে তাদের নতুন জীবনে এত বেশি তদারকি করেন যে, স্বামী স্ত্রীর মাঝে আত্মনির্ভরশীল হওয়া তো দূরের কথা, এমনকি তাদের একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসার জায়গাটিও নষ্ট করে ফেলেন।
তেমনই একটি ঘটনার সম্মুখীন হয় রাজু তার স্ত্রী রিনাকে নিয়ে। যার সমাপ্তি ঘটাতে চায় রাজুর স্ত্রী বিবাহ বিচ্ছেদে।
কিন্তু, বিচ্ছেদের মাঝেও তাদের সব সমস্যার সমাপ্তি ঘটে না। সন্তান জন্মের পর তারা বিচ্ছেদ হলেও সেই শূনত্যা একটা সময়ে সন্তানকেও বয়ে বেড়াতে হয়।
আর যদি বিচ্ছেদই কোনো সমস্যার সমাধান হয়, তবে বিচ্ছেদের পর সন্তানের মঙ্গলের জন্য মায়ের মতো সেই বাবাও যেন সন্তানকে কাছে পান, সেই দিকটাও গুরুত্বের সাথে খেয়াল রাখতে হয়।
জেদ কিংবা রাগের বশবর্তি হয়ে সন্তানকে বাবার কাছ থেকে বঞ্চিত করলে, সেই সন্তানটিরও বাবার আদর, স্নেহ আর ভালোবাসার ঘাটতি থেকেই যায়।
শুধু তা-ই নয়, যখন কোনো সন্তানের জীবনে বাবা এবং মা তাদের কোনো একজনের ঘাটতি থেকে যায়, তখন সেই সন্তানের বেড়ে ওঠার মুহূর্তগুলোও দিনে দিনে বিষণ্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়ে যায়।
বাবা মাকে সমানভাবে কাছে না পাওয়ায় সন্তানের মনে যেমন দূরত্ব তৈরি হয়, ঠিক তেমন মনে চেপে রাখা ভুল কিংবা অভিমান থেকে, সন্তানের জীবনেও অনেক সময় বড় ক্ষতি হয়।
রাজু তেমনই একটি ঘটনার সম্মুখীন হয়ে তার জীবনের সমস্ত স্বপ্ন যেন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয় ! আর তারই ধারাবাহিকতায় লেখা ‘শেষ কথাটি বলা হলো না” উপন্যাসটি।