রেহান রাতের বেলা আম বাগানের ভিতর প্রবেশ করে দেখে যে একজন লোক গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে গাছের ডালের সাথে ঝুলে আছে। তার চোখগুলো খোলা অবস্থায় স্হির। মুখের একপাশ দিয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে। সে কাছে যাওয়ার পর মৃত লোকটা লাল জ্বলজ্বল চোখে তাকিয়ে দু'হাত বাড়িয়ে তাকে ধরতে চায়। রেহান চমকে উঠে ভয় পেয়ে পিছিয়ে যায়। বুকটা ছ্যাৎ করে গা শিহরে হাত-পায়ে কাঁপন ধরে। সে মনে মনে ভাবে, একি? আত্মহত্যা করার পরও লোকটা মারা না গিয়ে বেঁচে আছে এবং তার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসছে। এ দৃশ্য দেখে রেহান লোকটাকে বাঁচানোর জন্য এগিয়ে গিয়ে ঝুলন্ত পা দু'হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে।
আরে? লোকটা তো মারা গেছে। লাশ হয়ে জীব বাহির করা অবস্থায় হাত-পা টান টান করে গাছের ডালের সাথে ঝুলে আছে। না! এটা হতে পারেনা। একটু আগেও লোকটা তাকে ধরার চেষ্টা করেছে। অথচ এখন দেখছে লাশ। একটা আতঙ্ক আর ভয় এসে তার মনে ভর করে। চিন্তা চেতনা অসাড় হয়ে গুলিয়ে যায়। এসময় হঠাৎ লাশটা নড়ে উঠে বিকট অট্টহাসি দেয়। রেহান ঘাবড়ে গিয়ে কয়েক পা পিছিয়ে যায়। কি ভয়ঙ্কর ব্যাপার? লোকটা মারা গিয়ে পরক্ষনে আবার বেঁচে উঠেছে। এ দৃশ্য দেখে ভয়ে রেহানের সারা শরীর ঠকঠক করে কেঁপে হাত - পা অবশ হয়ে যায়। সে মনে মনে ভাবে হয়তো কোনো দুষ্টু জিন তাকে ভয় দেখাচ্ছে।
এরপর রেহান আমবাগান থেকে কবরস্থানে যায়। অমাবস্যার রাত। ঘড়িতে তাকিয়ে দেখে রাত ১২টা বাজে। এলাকাটি খুব নির্জন এবং নিরিবিলি। ঝি ঝি পোকা এবং মাঝে মাঝে শিয়ালের ডাক শোন যায়। কবরস্থানের ভিতর প্রবেশ করার পর তার কানে বাচ্চার ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্নার শব্দ ভেসে আসে। কিছুক্ষন কাঁন্নার পর হটাৎ তা থেমে যায়। এসময় মনে হয় কে যেন তাকে পিছন থেকে অনুসরণ করছে। সে ঘুরে তাকায়।কিন্তু কিছুই দেখেনা। কবরস্থানের চারপাশে অনেক বড় বড় শিমুল, কড়ই, তেঁতুল ইত্যাদি গাছ। এসময় তেঁতুল গাছের ডাল হঠাৎ অস্বাভাবিকভাবে নড়ে উঠে। সেদিকে তাকাতেই রেহানের শরীর কেঁপে উঠে। গাছের ডালে কাফনের কাপড় পরে সে একজনকে বসে থাকতে দেখে। ভয়ঙ্কর এবং বিভৎস তার চেহারা। মুখে রক্তের ছোপ ছোপ দাগ। মুখের দুপাশ দিয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে। মনে হয় কোনো লাশের মাংস ও রক্ত খেয়ে এসেছে।
পাশে অবস্থিত একটি বট গাছের উপর থেকে কে যেন তার নাম ধরে ডাকে। গাছের দিকে তাকাতেই দেখে একজন হাসিমুখে তার দিকে অপলক দৃষ্টিতে বিশ্রীভাবে তাকিয়ে আছে। তার চোখগুলো আগুনের মতো জ্বলজ্বল। বিশাল দেহ ও লম্বা হাত। হাত-পায়ের নখগুলো হায়নার মতো ধারালো। এতো ভয়ঙ্কর যে দেখলে পিলে চমকে যায়। রেহানের শরীর ভয়ে ছম ছম করে শিহরে উঠে। একটা চাপা ভয় আর আতঙ্ক এসে ভর করে। সে বুঝতে পারে যে দুষ্টু জিনরা তাকে ভয় দেখাচ্ছে।
ড. মির্জা গোলাম সারোয়ার পিপিএম দিনাজপুর জেলার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দিনাজপুর ও পাবনা জেলা স্কুল, পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে যথাক্রমে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজ বিজ্ঞানে সন্মানসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি দৈনিক সমকাল, দৈনিক বাংলা, দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক স্বদেশ প্রতিদিন, দৈনিক চট্টগ্রাম, দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার, শীর্ষ অর্থনীতি সহ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় কলাম, প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কবিতা, ছড়া, ফিচার ইত্যাদি লিখে থাকেন। ছাত্রাবস্থায় তিনি পারিবারিক পত্রিকা মাসিক ফুলকুঁড়ির নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২৩ টি সাহিত্য সংগঠনের সাথে জড়িত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এ্যালামনাই এ্যাসোসিয়েশন, চুয়াডাঙ্গার শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশন এবং বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার্স কল্যান সমিতির।আজীবন সদস্য। তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ৭০ টি। তিনি শতবর্ষে বঙ্গবন্ধু, বঙ্গবন্ধু সাহিত্য পুরস্কার,মাদার তেরেসা, ইউনেস্কো,পদক সহ এ পর্যন্ত ৭৫ টি সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন। বাংলা সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার্স কল্যান সমিতির পক্ষ থেকে তাঁকে সম্মাননা ক্রেষ্ট প্রদান করা হয়। পুলিশে হিসেবে চাকুরি করাকালীন তিনি রাষ্ট্রপতি ও জাতিসংঘ পদক প্রাপ্ত হন। আইন শৃঙ্খলা রক্ষার্থে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালনের জন্য নওগাঁ জেলার সাপাহার উপজেলা পরিষদ কর্তৃক তাঁকে স্বর্ণপদক এবং র্যাবে চাকুরি করাকালীন সেরা কোম্পানি কমান্ডার হিসেবে আইজিপি পদক প্রদান করা হয়।