বাংলার দিগন্ত বিস্তৃত ফসলের উর্বর ভূমি, অসংখ্য নদ-নদী বেষ্টিত কাননময় নিসর্গ আর ফুলে ফলে তরা মায়াময় প্রকৃতির আকর্মাণে সেই অনাদিকাল থেকে এই দেশের পূর্ব, উত্তর এবং পশ্চিমের নানা জাতি-ধর্ম ও বর্ণের মানুষ এসে এখানে বসতি গেড়েছেন। এরা গড়ে তুলেছেন সমৃদ্ধ এক হাতা। এই সভাতার ভিত্তি ছিল কৃষি এবং শিল্প। বাংলার এই সমৃদ্ধি চরম ভাবে উৎকর্ষ লাভ করে গৌড়কেন্দ্রিক সুলতানি যুগের মাঝামাঝি পর্যায়ে। পরবর্তী সময়ে মোগল ও আফগান শক্তি বাংলার ঐশ্বর্যে বসাতে মরিয়া পরস্পরের মধ্যে যুদ্ধেলিপ্ত হয়। আফগান মোগলদের পরাজিত করে সামান্য কয়েক বছরের জন্য বাংলাদেশের ভাগ্য বিধাতা হয়েছিল। এরপর মোগল শক্তি আত্মার মসনদে বসেই বাংলা অধিকারের স্বপ্ন দেখতে শুরা করে। সম্রাট আকবরের সময়ে পর পর তিনটি অভিযান প্রেরিত হলেও তাদের বাংলা ভয়ের স্বপ্ন পুরোপুরি সফল হয়নি। সবশেষে সম্রাট জাহাঙ্গীরের সুদক্ষ সেনাপতি ইসলাম খানের নেতৃত্বে মোগল বাহিনী ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৬১২ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ক্রমাগত যুদ্ধ বহু সৈন্য ও সম্পদ ক্ষয়ের বিনিমরে সমন্ন বাংলার নিয়ন্ত্রণ লাভকবে। তবে চট্টগ্রাম বাজার নিয়ন্ত্রণে। বাংলা নরম পলিময় মাটির দেশ। এখানকার মানুষের হৃদয় কোমল। সেই কোমল, মৃদু, বীর ও স্বভাবের মানুষগুলোর মধ্যে সুপ্ত হয়ে লুকিয়ে থাকে বিদ্রোহের সুক্ষ দানা। ঠিক সঠিক সময়ে সেই সুক্ষ্ণ বিদ্রোহের বীজ অঙ্কুরিত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে দিগ দিগন্তে। মোগন এবং আফগান আক্রমণকারীরা তাই খুব সহজেই এদেশকে পরাস্ত করতে পারেনি। অসংখ্য প্রতিরোধ যুদ্ধের সম্মুখীন হয়ে তনেই এদেশকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে। এজন্যে মূল্য দিতে হয়েছে অজস্র। দিল্লি ও অগ্রার মোগল দরবারের ফার্সী ঐতিহাসিকগণ তাইতো এদেশের নাম দিয়েছিলেন "বুলথাকখানা- বা বিদ্রোহ্যগার'।
মাহবুব সিদ্দিকী জন্ম গঙ্গা পাড়ের রাজশাহী শহরে । পিতার চাকরি সূত্রে বাল্যকাল ও কিশোর সময় কেটেছে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় । পেশাগত জীবনে পুলিশ বিভাগে চাকরির সুবাদে দীর্ঘ ৩৬ বছরের অভিজ্ঞতা সঞ্চিত হয়েছে। বাংলাদেশকে দেখেছেন খুব নিকট থেকে। বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি, ইতিহাস-ঐতিহ্য সর্বপরি এখানকার মানুষদের বৈচিত্র্যপূর্ণ সামাজিক জীবন নিয়ে কাজ করতে পছন্দ করেন । বাংলাদেশের নদ-নদী এবং স্থানীয় ইতিহাস বিষয়ক একাধিক মৌলিক গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত গ্রন্থ সমূহ— 'আম', 'শহর রাজশাহীর আদিপর্ব', 'বাংলাদেশের বিলুপ্ত দীঘি- পুষ্করিণী-জলাশয়', 'নারদ নদ', 'বড়াল নদের ইতিকথা', 'ফিরিয়ে দাও সেই প্রবাহ', 'গঙ্গা-পদ্মা- পদ্মাবতী', 'আমাদের নদ-নদী', 'ব্রহ্মপুত্র নদ', “কোন আমটি কখন খাবেন', 'রাজশাহীতে পর্যটন সম্ভাবনা', 'বৃহত্তর সিলেটের সংক্ষিপ্ত বিবরণ- সিলেট মহানগরীর বিলুপ্ত জলাশয়' ইত্যাদি । ভালোলাগার বিষয় : বাংলাদেশের প্রকৃতি এবং এদেশের মানুষ ।