বিচিত্র ও রহস্যময় এ পৃথিবী। মহান স্রষ্টার সৃষ্টির উষালগ্ন থেকেই এ বিচিত্রতার খেলা চলছে অবিরাম। মহান স্রষ্টার সৃষ্টির সেরা জীব মানুষের মধ্যেও রয়েছে এ বৈচিত্রতার সুস্পষ্ট ছাপ। পৃথিবীর এক মানবগোষ্ঠীর সাথে অন্য মানবগোষ্ঠীর রয়েছে ব্যাপক পার্থক্য। ধর্ম, বর্ণ, সমাজ, সংস্কৃৃতি, ভাষা, চিন্তা-চেতনা তথা—মানবজীবন প্রণালীর সকল ক্ষেত্রেই রয়েছে কমবেশি ভিন্নতা। গোটা বিশ্বজুড়ে গড়ে ওঠা এ ভিন্নতা কোথাও-কোথাও কখনো-কখনো হয়ে উঠেছে পরস্পর বিরোধী ও সাংঘর্ষিক। মানব জীবনের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এ ভিন্নতার কারণে সেই সুদূর এক অতীত থেকে যে হিংসা, হানাহানি ও রক্তপাতের শুরু হয়েছিল, তা আজও সমানভাবে বহমান। বিজ্ঞানের জয়যাত্রার আনুকূল্যে বিশ্ব-সভ্যতা তার চরম শিখরে পৌঁছালেও সুসভ্য মানুষ হিসেবে আমরা আমাদের আদিম ও অনুদার মানসিকতার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ‘একটি উল্লেখযোগ্য অর্জনে’ সক্ষম হয়েছি—এ দাবিটি এখনো প্রশ্ন্নবিদ্ধ। সভ্য বিশ্ব আজও পারেনি বর্ণ-বৈষম্য দূূর করতে। অবসান ঘটেনি খ্রিষ্টান জগতের ক্যাথলিক-প্রটেস্ট্যান্ট দ্বন্দ্বের। ইসলামের শিয়া-সুন্নী দ্বন্দ্ব অতীতের চেয়েও তীব্রভাবে বহমান। আজও সফল হয়নি ভারতের হরিজন আন্দোলন, তেমনি আজও নির্বাপিত হয়নি এ উপমহাদেশের হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্পের আগুন।
অনেক রক্তগঙ্গা পেরিয়ে ধর্ম-সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে অখণ্ড ভারত ভেঙে স্বতন্ত্র, স্বাধীন ও সার্বভৌম ভারত-পাকিস্তান রাষ্ট্র দুটির জন্মের পর ৭৫ বছরেরও অধিক কাল পার হয়ে গেলেও পুরোনো পাপের অবসান ঘটেনি এবং তা দুই দেশে সমানভাবেই। ভারত বহু ধর্মালম্বী মানুষের দেশ হলেও হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায় দুটিই সংখ্যাগরিষ্ঠ। এ প্রধান দুটি সম্প্রদায় নিয়েই আধুনিক ভারতের ইতিহাস আবর্তিত। সম্প্রদায় দুটির ধর্ম-সমাজ, শিক্ষা-সংস্কৃতি পৃথক ও নিজস্ব হওয়ায় বহুকালের সহাবস্থান সামাজিক ক্ষেত্রে স্বাতন্ত্র্যবোধ কিছুটা দুর্বল হলেও ধর্ম, শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিরোধ ও অনৈক্যই ছিল জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার পথে বড় বাধা। তাই আধুনিক জাতীয়তাবাদ বলতে যা বুঝায়, ব্রিটিশ পূর্ব ভারতে তা ছিল না। ব্রিটিশ যুগে পাশ্চাত্য শিক্ষা ও দর্শনই ভারতীয়দের মধ্যে জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ও স্বাধিকার আন্দোলনের প্রেরণা যুগিয়েছিল। ব্রিটিশ কোম্পানি সরকারের চিরস্থায়ী ভূমি ব্যবস্থা ও পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রভাবে ভারতে যেসব জমিদার ও শিক্ষিত মধ্যবিত্তের উদ্ভব ঘটে, তারাই ভারতের জাতীয় জাগরণের নেতৃত্ব দেন। দুর্ভাগ্য! সে জাতীয় জাগরণের ভিত্তি হয়ে দাঁড়াল ধর্ম। গড়ে উঠল স্বতন্ত্র জাতীয় চিন্তা-চেতনা, ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদ ও রাজনীতি।
ড. মাে. মুনিরুজ্জামান। নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম উপজেলার জোনাইল ইউনিয়নের দ্বারিকুশী গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে লেখকের জন্ম। জন্ম ৩ মে, ১৯৬৫ সাল। পিতা মরহুম এরশাদ আলী প্রামানিক এবং মাতা আলহাজ্ব মাছুরা এরশাদ এর ৬ ছেলে ও ১ মেয়ের মধ্যে লেখক দ্বিতীয় সন্তান। তাঁর ভাই, বােন সবাই চাকরিজীবী। তিনি নিজ ইউনিয়নের সেন্ট লুইস বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে স্টারসহ ১ম বিভাগে এসএসসি, নবাব সিরাজউদ্দৌলা সরকারি কলেজ, নাটোর থেকে ১ম বিভাগে এইচএসসি এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ থেকে অনার্স, মাস্টার্স ও ডিএফআইডির (DFID) আর্থিক সহায়তায় পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ১৯৯৩ সালের ১ এপ্রিল বিসিএস (মৎস্য) ক্যাডারে থানা মৎস্য কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি জীবন শুরু করেন। বর্তমানে প্রিন্সিপাল, মৎস্য ডিপ্লোমা ইন্সটিটিউট, মৎস্য অধিদপ্তর, কিশােরগঞ্জ এ কর্মরত। মৎস্য অধিদপ্তরে তিনিই প্রথম মাছের রােগের উপর পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। বাংলাদেশে তিনি মাছের রােগ নিরাময়ে ভেষজ চিকিৎসা প্রয়ােগের পথিকৃৎ। তিনিই প্রথম রােগাক্রান্ত থাই পাঙ্গাস থেকে Edwardsiella tarda ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত করেন। মাছের রােগ বিষয়ক তাঁর প্রকাশনা: দেশি-বিদেশি জার্নালে প্রকাশিত ফুল পেপার- ১২টি, প্রসেডিংস/অ্যাবস্ট্রাক্ট৪টি, বই- ৩টি, বুকলেট-২টি, লিফলেট- ৬টি, দৈনিক/ সাপ্তাহিক/পাক্ষিক পত্রিকায়/স্মরণিকায় প্রকাশিত আর্টিকেল৬টি, মৎস্য বিষয়ক নাটক- ২টি, সিলেট বেতার কর্তৃক প্রচারিত নাটিকা- ৪টি। তিনি সিলেট বেতারে কৃষি বিষয়ক অনুষ্ঠানের ২ বছর নিয়মিত শিল্পী ছিলেন। দেশে ও বিদেশে মাছ এবং চিংড়ি চাষ ও হ্যাচারি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে তিনি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। চট্টগ্রাম বিভাগে শ্রেষ্ঠ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা হিসেবে “শুদ্ধাচার” সনদপ্রাপ্ত। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে ২ বার ইনােভেশন শােকেসিং এ অংশগ্রহণ এবং ফেনী জেলার উন্নয়ন মেলায় শ্রেষ্ঠ “ইনােভেশন স্টল” হিসেবে ক্রেস্ট ও সনদপ্রাপ্ত। তিনি মৎস্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় প্রশিক্ষক হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন।